রঙ্গের রাজনীতি কিংবা রাজনীতির রঙ্গ!
ভারতবর্ষের বর্তমান রাজনীতি অদ্ভুত সব কৌতুকের জন্ম দিচ্ছে। যত দ্রুত শিবির বদল হচ্ছে আজকাল, তত তাড়াতাড়িই পাল্টে যাচ্ছে সখ্য ও শত্রুতার ক্ষণভঙ্গুর সমীকরণ!
বিহারের কথাই ধরুন। এনডিএ (NDA) শিবিরে বিজেপির সঙ্গে জনতা দল ইউনাইটেডের ঘরকন্না এখন অতীত। ঘরভাঙার এই গল্পটা বহু চেষ্টা সত্ত্বেও আটকাতে পারেনি বিজেপি (BJP)। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের কাছে এই ভাঙন যথেষ্ট দুশ্চিন্তারও। কিন্তু বাস্তবকে অস্বীকার করে তো রাজনীতি হয় না! সুতরাং, পুরনো বন্ধু এখন ঘোর শত্রু। উল্টোদিকে, জেডিইউ (JDU)-এর পুরনো শত্রু রাষ্ট্রীয় জনতা দল দূরত্ব ঘুচিয়ে এখন শুধু বন্ধু নয়, দোসরও বটে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ‘পেয়ারের’ উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব।

©’Legislative Assembly, Bihar’|Bihar Government|Bihar Government website|CC BY-SA 4.0
ঘটনা হল, মঙ্গলবার বিহার বিধানসভায় এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। বিহারের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘অশালীন’ শব্দ প্রয়োগ করেন তিনি। তা নিয়ে বিহারের রাজ্য রাজনীতিতে তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিতেও শোরগোল পড়ে যায়। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ (JDU)
প্রধান নীতীশ কুমার তড়িঘড়ি বিবৃতি দিয়ে বিতর্কিত শব্দ প্রত্যাহার করে নেন। জন্মনিয়ন্ত্রণের অত্যাবশ্যকতা উল্লেখ করে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি। কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভিজছে না বিজেপির। নীতীশ কুমারের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। এমনকি, খোদ প্রধানমন্ত্রী একদা-জোটসঙ্গীকে এই ইসুতে তুলোধোনা করতে দ্বিধা করেননি! নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কটাক্ষ, ‘আর কত নীচে নামবেন ওঁরা!’
বিপরীতক্রমে, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav) জোটের বাধ্যবাধকতা মেনে মুখ্যমন্ত্রীকে বিতর্ক থেকে আড়াল করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন। তাঁর যুক্তি, ‘নীতীশ কুমার যৌনশিক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন। যদিও এই বিষয় স্কুলশিক্ষার অন্তর্ভুক্ত, তবু তা নিয়ে কথা বলতে সংকোচ করেন সাধারণ মানুষ। জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বাস্তবে কী করা উচিত, সেটুকুই বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।’ অর্থাৎ, মিছেই এত তোলপাড়! খোদ নীতীশ কুমার যেখানে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন, সেখানে তেজস্বী যাদব তৈরি করছেন যুক্তির ঢাল!
কৌতুককর বিষয় হল, অনতি অতীতে এনডিএ-র শরিক হিসেবে ‘অশালীন’ মন্তব্য করলে, ভূমিকা পুরো উল্টে যেত বিজেপি ও আরজেডির। আজ বিজেপি যা বলছে, সেই কথাগুলোই শোনা যেত তেজস্বী যাদবের মুখে। এবং আজ তেজস্বী যাদব যে যুক্তি দিচ্ছেন, কার্যকারণের সেরকমই বিশ্লেষণ সাজাতে দেখা যেত বিজেপিকে!
ফলে এটা বুঝে নেওয়া খুব কঠিন নয়, বর্তমান রাজনীতিতে ‘অশালীনতা’ একটি জোট-সাপেক্ষ বিচার। ঘরের হলে মিছি-মিছি, পরের হলে ছি ছি ছি ছি!
©’Narendra Modi, Prime Minister of the Republic of Bharat’|15 March 2022, 17:00:27|PMO|PM INDIA|GODL|cover image|grouped
©’Nitish Kumar’|Planning Commission|PIB India|GODL|cover image|grouped
©’Tejashwi Yadav, Deputy CM Bihar’|Harshv7777|CC BY-SA 4.0|cover image|grouped
