চেখে দেখেছেন? লিখে রেখে দিন, তকমা পাবেই

বহুকাল আগের প্রেমিকাকে চিঠি লেখার ভঙ্গিমায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘নিমন্ত্রণ’। সেই কবিতায়, মজা করে, কী নিদান দিয়েছিলেন তিনি, মনে আছে? মনে করিয়ে দিই—

‘জেনো, রসনার সেরা বাসা রসনায়।’

তারপর? কবেকার সেই প্রেমিকার কাছে রবি ঠাকুরের ‘মৃদু সংকেতে মোটা ফরমাশ’ ছিল এইরকম সপ্রশংস—

‘শোভন হাতের সন্দেশ পানতোয়া,
মাছমাংসের পোলাও ইত্যাদিও
যবে দেখা দেয় শোভামাধুর্যে-ছোঁওয়া
তখন সে হয় কী অনির্বচনীয়!’

আহা! এমন করে আর কেই-বা লিখতে পারেন! এবং একথাও সত্যি যে, ‘সন্দেশ পানতোয়া’র ‘অনির্বচনীয়তা’ অনস্বীকার্য।

এবার কথা হল, অনস্বীকার্যই যখন বলছি, তখন বাংলার এই সুমিষ্ট কৃতিত্বকে জিওগ্রাফিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন ট্যাগ (Geographical Identification Tag) বা জিআই (GI) দিয়ে স্বীকার করে নেওয়া হবে না কেন?

রসগোল্লা পথ দেখিয়েছে। এবার কালনার নোড়া পান্তুয়া পথ পাক। কোমর বেঁধে লেগে পড়েছেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ (Swapan Debnath)। তিনি যে কালনার পাশের বিধানসভা কেন্দ্র পূর্বস্থলী দক্ষিণেরই বিধায়ক (MLA)! ফলে এ যেন তাঁর পবিত্র কর্তব্য! এ যেন স্বাভিমানী সুরসিকের দায়!

সত্যিই, চেষ্টার কোনও কসুর করছেন না স্বপনবাবু। একভাঁড় নোড়া পান্তুয়া নিয়ে সোজা চলে গিয়েছেন আরেক মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের (Ujjwal Biswas) কাছে। বিজয়ার আবহে শুধু মিষ্টিমুখ করা নয়, সেখানে ২ জনে মিলে ঘেঁটে দেখেছেন কালনার অতুলনীয় মিষ্টিটির ইতিহাস, জিআই সম্পর্কিত আইনকানুন, দলিল-দস্তাবেজ! তারপর সেই পান্তুয়ার হক কেন্দ্রিক বৈঠকের ছবি দিয়ে ফেসবুকে স্বকীয় বার্তা পোস্টও করেছেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।

দেখেশুনে মনে হচ্ছে, পান্তুয়ার সৌজন্যে আরও একবার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি পেতে চলেছে কালনা। সেদিন আর বেশি দূরে নেই। কেননা, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ছবিতে মন্ত্রীদ্বয়ের আত্মবিশ্বাসী অবয়ব জানান দিচ্ছে—নোড়ার গোড়ার কথা যথেষ্ট মজবুত।

©’Pantua, a Bengali sweet’|Biswarup Ganguly|GFDL|cover image