স্বাস্থ্য নিয়ে খেলা

খোদ দিল্লিতে জাল মেডিক্যাল!

গলব্লাডারে অস্ত্রোপচার জরুরি। পূর্বনির্দিষ্ট তারিখে চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে রোগী জানলেন, যে চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল, তিনি অনুপস্থিত! তার পরিবর্তে দায়িত্বে অন্য কেউ। তাতে তখন আর রাজি না হয়ে উপায় নেই! অতএব শুরু হয়ে গেল অপারেশন। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালীন অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলেন রোগী। অবস্থা বেগতিক বুঝে তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হল নিকটবর্তী হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। মৃত্যু হল রোগীর।

গত বছর ঠিক এরকমটাই ঘটেছিল আসগর আলি নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। ঘটেছিল দিল্লির অভিজাত এলাকা গ্রেটার কৈলাসের আগরওয়াল মেডিক্যাল সেন্টারে। আসগর আলির শরীরে প্রথম যে চিকিৎসকের অস্ত্রোপচার করবার কথা ছিল, তার নাম যশপ্রীত সিং। পরে যারা অপারেশন করতে গিয়ে অঘটনটি ঘটায়, তারা হল—পূজা আগরওয়াল ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মাহিন্দর সিং। পূজা আবার ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাথা নীরজ আগরওয়ালের স্ত্রী। পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় আসগর আলিকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আগারওয়াল মেডিক্যাল সেন্টারে আসগর আলির সঙ্গে যা ঘটেছিল, তা কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়। দিল্লি পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, ওই ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে’র বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছরে আসগর আলি সহ অন্তত ২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার, যশপ্রীত সিং একজন ফিজিশিয়ান। ভুয়ো তথ্য পেশ করে নিজেকে সার্জন বলে দাবি করত সে, অভিযোগ!

নীরজ, পূজা, যশপ্রীত ও মাহিন্দরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝাঁপ বন্ধ করা হয়েছে আগরওয়াল মেডিক্যাল সেন্টারের। চিকিৎসা সংক্রান্ত বহু অবৈধ নথি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও বিপজ্জনক চিকিৎসা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।