নভেম্বরের রাত। মঞ্চ প্রস্তুত। ১০/১০ ‘অপরাজেয়’ ভারতের পক্ষে ফাইনাল জেতাটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু জীবনের মতো ক্রিকেটও অনিশ্চয়তায় ভরা— অস্বাভাবিকতার সঙ্গেই সংসার তার! সংসার— প্রত্যাশার ঘুঁটি উলটে দেওয়া পাগলামির সঙ্গে!
হ্যাঁ, অস্বাভাবিক হয়ে উঠল মূর্ত বাস্তব। স্বাভাবিক চলে গেল ‘অধরা মাধুরী’র দখলে! ভারতের জেতা হল না ক্রিকেট বিশ্বকাপ। জিতলে এ’দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মন কানায় কানায় ভরে উঠত আনন্দে, বলার অপেক্ষা রাখে না। যেটা তার সঙ্গে বলার, তা হল— ভারতের হাতে বিশ্বকাপ তুলে দিতে পারলে, প্রধানমন্ত্রীও ঢুকে পড়তেন ভিন্নতর সন্ধিক্ষণে। সেই মুহূর্ত থেকে সূচিত হতে পারত আরেক যুদ্ধজয়ের যাত্রা!
প্রস্তুতি-পরিকল্পনা, সবই ছিল। কিন্তু ছিল না ‘ক্রিকেট দেবতা’র দাক্ষিণ্য।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁরা হাসছেন, হাত নাড়ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। বোঝা যাচ্ছিল, শুধু ক্রিকেটে নয়, মাত্রা যোগ হচ্ছে অন্যত্রও। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না সেই মাত্রা! হারল ভারত। প্রধানমন্ত্রী থেকেই বিশ্বকাপ পকেটে পুরল অস্ট্রেলিয়া। যা ভাবা গিয়েছিল, তা ভাবনা হয়েই রয়ে গেল, সুতরাং। কাজে ফলল না।
রবিবার রাতেই নিজের এক্স (X, পূর্বনাম Twitter) হ্যান্ডল থেকে ২০২৩-বিশ্বকাপারদের অভিনন্দিত করেছেন নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ ভাবে ট্রাভিস হেডের নাম উল্লেখ করে ফাইনালে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি, ভারতীয় ক্রিকেট দলের উদ্দেশে নরেন্দ্র মোদীর এক্স বার্তা—
যেটা ঘটল না, সেটা মেনে নেওয়া ছাড়া এখন আর কোনও উপায় নেই। বরং যেটা ঘটবে কিংবা ঘটতে চলেছে, এবার বোধহয় সেই দিকে দৃষ্টি ফেরানোর পালা।