মোদীকে ‘শুভ’ বললে কমিশন ঘুমোয়?
ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের হার যে কতটা প্রভাব ফেলেছে দেশে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতে এখন নতুন দুর্লক্ষণ আমদানি হয়েছে! ডব্লিউসিসির অন্তিম ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার বিপর্যস্ত হওয়ার রেশ তার দখলেও চলে যাবে, এটা ভাবা যায়নি।
রাজস্থানের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষ্যে সে’রাজ্যে প্রচারে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে সদ্য সমাপ্ত ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। তখনই তাঁর আক্রমণের নিশানায় চলে আসেন নরেন্দ্র মোদী। যে স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ হয়েছিল, তার নাম নিয়ে কটাক্ষ করেন সনিয়া-পুত্র। স্টেডিয়ামের নামের পাশাপাশি, গ্যালারিতেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে তীব্র শ্লেষে বিদ্ধ করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে রাহুলের সেই বক্রোক্তির ভিডিও বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এক্স (X, পূর্বনাম Twitter)-এ দেখুন, কী বলেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। ⬇️
যুক্তি দিয়ে বিচার করলে, রাহুল গান্ধীর ব্যঙ্গোক্তির কোনও সারবত্তা খুঁজে পাওয়া যায় না। নেহাতই কুসংস্কারকে ইঙ্গিত করে তাঁর শ্লেষ। প্রতিপক্ষকে হেয় করার অভিপ্রায় ছাড়া ওই বক্রভাষণের আর কোনও তাৎপর্য নেই। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বিজেপির ট্রোলার বাহিনী বিশিষ্ট বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের বিরুদ্ধে যা করতে পারে, জনসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী কি তেমনটাই করতে পারেন বিজেপির ‘নয়নমণি’ নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে?
রাহুল যে তা করতে পারেন না, অন্তত সেটা করা সমীচীন নয় বা করলে পার পাওয়া অসম্ভব— বোঝাল নির্বাচন কমিশন। সমালোচিত বক্তৃতার ভিডিও সমেত বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার কমিশন নোটিশ ধরালো রাহুল গান্ধীকে। নির্বাচনী বিধিভঙ্গের আওতায় পড়ে গেলেন কংগ্রেস নেতা। এখন নির্বাচন কমিশনের কাছে রাহুলকে স্পষ্ট করতে হবে তাঁর মন্তব্যের মর্মার্থ, তাৎপর্য এবং কার্যকারণ। হাতে খুব অল্প সময় পাচ্ছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি।
কিন্তু নাম নিয়ে বিদ্রুপ, অবৈজ্ঞানিক মন্তব্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন বিশেষণ প্রয়োগ, গণচিত্তে প্ররোচনামূলক সুড়সুড়ি, শালীনতার সীমা অতিক্রম করে শব্দ প্রয়োগ কি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন কিছু? নাকি বিজেপি এ’ব্যাপারে ধোয়া তুলসীপাতা? অথবা উল্টোভাবে দেখলে, গণ-আবেগের হওয়াকে নিজেদের পালে টানতে কুসংস্কারকে বরং অনেক বেশিই কি ব্যবহার করেনি বা করে না গেরুয়া শিবির? বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারত জিতলে, আহমেদাবাদের একদা-‘মোতেরা’ মাঠের নামমাহাত্ম্য ও প্রধানমন্ত্রীর ‘পয়া’ উপস্থিতিই কি পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে বিজেপির বিজ্ঞাপনী হাতিয়ার হয়ে উঠত না? নির্বাচন কমিশন কি সে’সব ক্ষেত্রে কোনও পদক্ষেপ করে বা করেছে আজ পর্যন্ত? প্রশ্ন তোলার সময় কিন্তু এসে গিয়েছে। এবং প্রশ্ন উঠছে।
