প্রেরকের নাম নেই, খামে কোটি কোটি!!
গত মাসের মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা। দাতব্য সংগঠনের ঠিকানায় এসে পৌঁছল একটা খাম। তা খুলে দেখা গেল প্রবাস থেকে টাকা পাঠানোর শ’খানেক রেমিটেন্স সার্টিফিকেট (remittance certificate)! হিসেব করতে বসলেন অ্যাকাউন্টেন্ট। হিসেব হল। সব মিলিয়ে দাঁড়াল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাছাকাছি।
ভারতীয় মুদ্রায় অর্থের পরিমাণ বললাম বটে, ঘটনাটা কিন্তু এদেশের নয়। এমনটা ঘটেছে চিনের পূর্বাঞ্চলে। দাতব্য সংগঠনটির নাম – নিংবো চ্যারিটি ফেডারেশন (Ningbo Charity Federation)। আর হ্যাঁ, ওই খামে একটা চিঠিও ছিল। তাতে শুধু এক লাইনে লেখা: যা হচ্ছে, তা হতে দিন। বিপুল অর্থ ও অতি সংক্ষিপ্ত রহস্যময় পত্রের প্রেরকের নাম-ঠিকানার কোনও উল্লেখ কিন্তু কোথাও নেই!
অবাক হচ্ছেন? হওয়ারই কথা। তবে দাতব্য সংগঠনের লোকজন কেউ অবাক হচ্ছেন না। হবেনই-বা কেন? এমনটা যে সেই ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি নভেম্বরে ঘটে আসছে! big fundঅর্থের পরিমাণ বছরে বছরে বেড়েছে। আর প্রতিবার সঙ্গে ওই এক চিঠি ম্যান্ডারিন ভাষায় – মর্মার্থ: যা হচ্ছে, তা হতে দিন।
চিনা সংবাদ মাধ্যমকে নিংবো চ্যারিটি ফেডারেশনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোড়ার দিকে একবারই তুলনায় বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন অজ্ঞাত পরিচয় ওই ব্যক্তি। প্রধানত ২টি অনুরোধের কথা লিখেছিলেন। এক, তাঁর পাঠানো যাবতীয় অর্থ যেন দরিদ্রদের শিক্ষাখাতে ব্যয় হয়। দুই, ‘anonymous’ অর্থাৎ অজ্ঞাত-পরিচয় হয়েই যেন থাকতে পারেন তিনি। এ বিষয়ে কেউ কৌতূহলী না হলেই স্বস্তি পাবেন। চিঠিতে এই দুই আন্তরিক অনুরোধের সঙ্গে জুড়েছিল একটি আত্মসংকল্পও। লিখেছিলেন তিনি, ‘আমি কখনও খারাপ কাজ করব না। আমি কখনও আমার ভালো কাজের কথা কাউকে বলব না।’
অজানা পরিচয়ের ওই ব্যক্তির থেকে গত ২৫ বছরে দাতব্য সংগঠনে এসে পৌঁছেছে বিপুল অর্থ – ভারতীয় মুদ্রায় মোট প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার সমান। কথা রেখেছে নিংবো চ্যারিটিও। ঝেজিয়াং (Zhejiang) প্রদেশে গরিব অনগ্রসর পড়ুয়াদের বিদ্যার্জনে তাদের বিপুল কর্মকাণ্ড সত্যিই দেখবার মতো।

Image Courtesy: Athena Lao | ‘ school girls ‘ | CC BY 2.0 | Trimmed
নেপথ্যের নিঃস্বার্থ নায়ক স্ব-ইচ্ছায় এখনও পরিচয় গোপন রাখতে পেরেছেন। শর্ত মেনে স্বেচ্ছাসেবীরা কখনও কৌতুহলী হননি। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা। কেননা সেখানকার নিয়মানুসারে, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার কাছাকাছি মূল্যের চিনা মুদ্রা ট্রান্সফার করতে হলে প্রেরকের পরিচিতি অনুপুঙ্খভাবে জানাতে হয় ব্যাংককে। এক্ষেত্রে রেমিটেন্স সার্টিফিকেট পাঠানোর বিকল্প পথ বেছে নিয়েছেন অজ্ঞাত-পরিচয় প্রবাসী। ব্যাপারটা মজার। মহত্ত্বেও বিড়ম্বনার অভাব নেই তাহলে? মহৎকেও প্রয়োজনে কৌশলী হতে হয় সুতরাং।
আসলে কথাটা হল, মহান মানুষের মূল সম্পদ আকীর্ণ থাকে অন্তরে। বাকিটা বাইরের বিষয়। বাকিটা – ‘যা হচ্ছে, তা হতে দিন।’
Cover Image Courtesy: X / @InsightNingbo | ‘ Anonymous Donor ‘
