দেহ পচতে চলেছে মায়ের, মানতে নারাজ ছেলে!

মৃত্যুর পর প্রিয় মানুষের দেহ ছাড়তে না চাওয়া। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহের সঙ্গে প্রাত্যহিকতা। প্রায়শ এ’ধরনের ঘটনা কানে এসে পৌঁছয় আমাদের। কলকাতার রবিনসন স্ট্রিট (Robinson Street) এক্ষেত্রে বড় একটা উদাহরণের স্থল। সে’ঘটনা পেরিয়ে অনেকগুলো বছর অবশ্য কেটে গিয়েছে। কিন্তু ঘুরেফিরে একইপ্রকার ঘটনার যেন বিরাম নেই! প্রতিক্ষেত্রে এমনটা ঘটাচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এবং এটা দেখা যাচ্ছে যে, এসব ঘটনার কেন্দ্রে থাকা নারীপুরুষের অপ্রকৃতস্থ আচরণ সম্পর্কে আগে থেকে অবগত পরিচিতরা।

গত বুধবারই সামনে এসেছিল বারাণসীর খবর। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ, সেখানে মাসের পর মাস ঘরের ভিতর ছিল মহিলার মৃতদেহ। মানসিক ভারসাম্যহীন ২ মেয়ের কাণ্ডে স্তম্ভিত সকলে।

৩ দিনের মাথায় পুনরাবৃত্তি! এবার হুগলির হিন্দমোটরে। অত দীর্ঘ সময়ের না হলেও, এখানকার ফ্ল্যাটে বেশ কয়েকদিন দেহ থাকায় পচন শুরুর উপক্রম হয়। পরিচারিকাকে ছুটি দিয়ে অঘটন বাধিয়েছেন তিরিশোর্ধ্ব শুভ্রনীল হাজরা। তাঁর মা, কল্যাণী হাজরা, এক নম্বর বিএন দাস রোডের বাড়িতে দিন তিনেক আগে মারা গিয়েছেন। এ ক’দিন ফ্ল্যাটেই ছিল তাঁর দেহ। শেষপর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে মৃতদেহটি বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রেও শুভ্রনীলের মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রতিটি ঘটনাই গভীর উদ্বেগের। মনোবিদরা বলতে পারবেন, এরূপ প্রবণতা কোন মানসিক সংকটকে ইঙ্গিত করে। তবে সাধারণ পর্যবেক্ষণ হল, শুভ্রনীলরা প্রত্যেকে স্বভাবে অন্তর্মুখী। জনজীবন থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। আলাপচারিতায় সম্পূর্ণ নিরুৎসাহী। লক্ষণগুলি সার্বিকভাবে একই দিকনির্দেশ করে – তা নয়। তবে কারও ব্যাপারে খটকা লাগলে, ভবিষ্যতের অঘটন আটকাতে, এসব বিশেষত্বের অনুপুঙ্খ চিহ্নায়ন জরুরি হয়ে পড়ছে।