যৌবনের পক্ষে সওয়াল অভিষেকের

অভিজ্ঞতাকে অবহেলা নয়, কিন্তু…

‘রাজনীতি, ক্রিকেট, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং – প্রতিটি ফিল্ডেই বয়সের ঊর্ধ্বসীমা থাকা দরকার।’ বক্তব্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এর কারণও ব্যাখ্যা করেন নিজের মতো করে। তাঁর যুক্তি, ‘যে পরিশ্রম ৩০-৪০-৫০ বছর বয়সের মানুষ করতে পারেন, তা বয়স ৭০-৭৫-৮০ হলে করা যায় না।’

তবে তৃণমূল সাংসদ তাঁর মন্তব্য বিষয়ে সতর্ক থেকে এও উল্লেখ করেন যে, ‘অভিজ্ঞতা সর্বত্র প্রয়োজন।’ তারপরেও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সংযোজন, ‘বয়স বাড়লে প্রোডাক্টিভিটি কিছুটা হলেও কমে।’

এটা সত্য যে, বৃদ্ধতন্ত্র অনেক রাজনৈতিক দলেরই সংকটের কারণ হয়েছে। আমাদের রাজ্যেই এমন দল রয়েছে। তবে সাফল্যের সোনালি যুগ পেরোনোর পরই ব্যর্থতার ময়নাতদন্তে কাঠগড়ায় তোলা হয় বয়সকে, এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ। সেই দিক থেকে দেখলে, তৃণমূল এখন সফলতার শীর্ষে। তাহলে এখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্যের কারণ কী? তিনি কি সময় থাকতে দলের স্বার্থে সতর্ক হতে চাইছেন? নাকি তৃণমূলে নবীন রক্তের প্রাধান্য বাড়ালে দলে তাঁর প্রভাব আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই এমন অভিমত?

একদিক থেকে দেখলে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ঘাসফুল শিবিরে একধরনের বিভাজনের আশঙ্কাও তৈরি করে – নবীন বনাম প্রবীণ। আবার বিজেপির ‘মার্গদর্শকে’র মডেলও এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক আলোচনা হয়ে উঠতে পারে।

তৃণমূল সাংসদ তাঁর মতের স্বপক্ষে যুক্তি সাজাতে গিয়ে ক্রিকেটের উদাহরণ টেনেছেন। গত কয়েক দশকে বয়সের বিষয়টি ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়েও ২২ গজে বিতর্ক তৈরি করেছে বেশি। সেক্ষেত্রে কিন্তু দেখা গিয়েছে, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশ্রণই সাফল্যের চাবিকাঠি।