‘আরও স্পষ্ট হল মোদী-আদানি আঁতাত’

কেন কণ্ঠরোধ?

তিনি আর কৃষ্ণনগরের সাংসদ নন। তিনি বহিষ্কৃত। তাঁর সংসদ পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সৌজন্যে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট ও লোকসভার ভোটাভুটি – ঠিক করে বললে, বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এমনকি লোকসভায় তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেননি অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। কিন্তু এতেও দমবার পাত্রী নন মহুয়া মৈত্র। সংসদে কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, তাতে কী! যা বলার ছিল, বহিষ্কৃত হওয়ার পর পার্লামেন্ট থেকে বেরিয়ে সে-সবই সাংবাদিকদের সামনে উগরে দিলেন তিনি। ঝাঁঝ সেই একই! বাচনভঙ্গি একইরকম বেপরোয়া!

আর বিষয়বস্তু? এথিক্স কমিটি থেকে ওম বিড়লা, নরেন্দ্র মোদি থেকে গৌতম আদানি – মহুয়ার নিশানা থেকে কেউ বাদ গেলেন না। বহিষ্কারের গোটা প্রক্রিয়াটিকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করা’র অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন। উল্টে অভিযোগকারীদের বয়ানে পরস্পর-বিরোধিতা আছে বলে সপ্রমাণ যুক্তি তুলে ধরলেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগকে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। মহুয়া এও উল্লেখ করেন যে, অন্যকে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে দিয়ে জনগণের প্রশ্ন লোকসভায় উত্থাপন করা সাংসদদের স্বাভাবিক অনুশীলন। এটা কোনও অর্থে অবৈধ তো নয়ই, বরং সংসদই এই প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করেছে বারবার। মহুয়ার সবচেয়ে বড় তোপ, তাঁর কণ্ঠরোধ করলেই আদানি ইস্যু থেকে পালিয়ে যাওয়া যাবে না। বহিষ্কারের এই মরিয়া পদক্ষেপই দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে, মোদী সরকারের কাছে আদানি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

Video Courtesy: PTI

তৃণমূল দল তাঁর পাশে আছে বলে বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমর্থনের জন্য এদিন নিজের দল তৃণমূল সহ গোটা ইনডিয়া জোটকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মহুয়া। এটা সত্যিই একটা ঘটনা যে, মহুয়া ইস্যুতে ইনডিয়া জোটের প্রতিটি দলই আজ সংসদে একজোট হয়েছে। ৩ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের বিপর্যয় ইনডিয়া জোটকে যেভাবে ছত্রভঙ্গ ও বিবদমান করে তুলেছিল, মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কারের ঘটনা ঠিক ততটাই উল্টো শক্তিতে তাকে পুনর্গঠিত করল, বলা যায়। তাও এত তাড়াতাড়ি এবং লোকসভা নির্বাচনের আগে এতটা সময় হাতে থাকতে!