পরিযায়ী শ্রমিকদের বিপদের দিনের বন্ধু পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ।

 দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিপদে আপদে পাশে থেকে তাদের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ।প্রচারের আড়ালে থেকে নীরবে পরিযায়ী শ্রমিকদের দাবী দাওয়া আদায় থেকে তাদের বিপদে ঝঁপিয়ে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের সদস্য সদস্যারা। তেমনই এক ঘটনার কথা তুলে ধরা যাক।

৩৫ বছরের ছোট্টু হেমব্রম। বীরভূমের সাঁইথিয়া বনগ্রামের বাসিন্দা।কয়েক বছর আগে এজেন্টের মাধ্যমে  গুজরাতের ভালসাদে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগে দেহরিতে রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ছোট্টু।তাঁর মাথায় চোট লাগে। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে গুজরাতে পৌঁচ্ছে যান ছোট্টুর স্ত্রী। হাসপাতালে সাতদিন চিকিৎসাধীন থাকার সময় মৃত্যু হয় ছোট্টু হেমব্রমের।

স্বামীর দেহ কিভাবে বীরভূমে নিয়ে আসবেন সে সব নিয়ে অথৈ জলে পড়েন ছোট্টুর স্ত্রী। কারণ তিনি যে এজেন্সির মাধ্যমে কাজে গিয়েছিলেন ছোট্টু সেই এজেন্সি তার মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছে দিতে অস্বীকার করে। এই খবর আসে পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের অন্যতম সদস্য শেখ রিপনের কাছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন রিপন। খবর পাওয়ার পরই রিপন একদিকে যোগাযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলামের সঙ্গে অন্যদিকে যোগাযোগ করেন ভালসাদ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে।পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ ও পর্ষদ ও পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের যৌথ প্রচেষ্ঠায় ছোট্টু হেমব্রমের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত থেকে সাঁইথিয়ার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে শেষকৃত্যের কাজেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের বীরভূম জেলার সদস্যরা। পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য যে সব সুয়োগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছে তার সব সুবিধা স্বজনহারা এই পরিবার পাবেন। পাশাপাশি পরিযায়ী ঐক্য মঞ্চের সদস্যদের বিপদের দিনে এই পরিবারের পাশে দাঁডানোর জন্য তাঁদের কুর্নিশ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *