জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন অনশনে কি পেল আমজনতা

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য : গত অগাস্ট মাস থেকে গনতান্ত্রিক পথে রাজ্যের জুনিয়ার ডাক্তার রা ন্যায় সঙ্গত এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন করে আসছেন সরকারি হাসপাতাল বা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে এবং অভয়ার সঠিক ও উপযুক্ত বিচারের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে, রাজ্যের বহু মানুষ এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন। কিন্তু, এরই মাঝে ১৭টি দিন গভীর চিন্তা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। প্রতিবাদী চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ দাবি না মেটা পর্যন্ত আমরন অনশনে বসেছিলেন ওই সতেরোটি দিন। অবশেষে স্বস্তি জাগিয়ে গত সোমবার তাঁরা অনশন প্রত্যাহার করেছেন। যারা এই আন্দোলন সমর্থন করছেন তারা আশ্বস্ত হয়েছেন, তবে প্রশ্ন উঠেছে এই পথে যাওয়ার কি কোন প্রয়োজন ছিল? আন্দোলন যতই সঠিক, যথার্থ এবং ন্যায় সঙ্গত হোক না কেন, আমরন অনশন কি তার সুনিশ্চিত পথ হতে পারে?
এর উত্তর অবশ্যই না। প্রতিবাদী চিকিৎসকরা রাজ্যের হাসপাতাল গুলিতে ও‌ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অনেক অনিয়ম ও গলদ অভিযোগ আকারে সামনে এনেছেন। অর্থাৎ ব্যবস্থায় যে গলদ রয়েছে তার কাঠামো বদলের দাবি করা হচ্ছে। System যদি গলদে ভরা হয় তাহলেও তা যেমন গড়ে উঠতে সময় লাগে তেমনই তা ভাঙতেও সময় লাগে। যারা এই আন্দোলনে নেমেছেন তাদের এই কথাটা মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা উচিত। রাজ্যবাসীর আরও একটি স্বস্তির কারণ রয়েছে সেটি হলে প্রতিবাদী চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ধর্মঘট করার হুমকিও দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা যে সেই হাতিয়ার ত্যাগ করেছেন তার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ প্রাপ্য।
তবে অনশন ও ধর্মঘট এই দুই বন্ধ গলি এড়িয়ে যাওয়ার পিছনে যে কারণ তারা দেখাচ্ছেন তা অতি অদ্ভুত। প্রতিবাদীরা বলছেন, নাগরিকদের পরামর্শে এবং অভয়ার বাবা মার অনুরোধে তারা ওই দুই পথ থেকে সরে এসেছেন। এমন যুক্তি শুনে কেউ ভাবতেই পারেন দেরিতে হলেও ভুল বুঝতে পেরে তারা বন্ধ গলি থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছিলেন।
এই অবস্থায় খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে এরপরে কোন পথ? রাজ্যের প্রধান যিনি সেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবাদীদের সঙ্গে বৈঠকে অভিযোগগুলির সুরাহা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শাসকদলের ছোট, বড়, মাঝারি নানা মাপের কিছু নেতা ও মন্ত্রী আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও তাদের সমর্থকদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে চলেছেন। ফলে আন্দোলন তার গুরুত্ব হারায়নি। এই অবস্থায় যে চিকিৎসকরা আন্দোলনে নেমেছেন তাদের আন্দোলনের সঠিক পথ খোঁজার এবং সেই পথে চলার ক্ষেত্রে গুরুতর ভূমিকা নিতে হবে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যেখানে অব্যবস্থা রয়েছে সেই সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করে চলতে হবে। আমাদের রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকায় মানুষ হতাশ। তাই এই অরাজনৈতিক আন্দোলনের পাশে অগনিত মানুষ দাঁড়িয়েছেন। এই অবস্থায় হঠকারিতা, সস্তা প্রচারে লক্ষ্যে অসত্য বলা এই বিপজ্জনক লক্ষনগুলি এড়িয়ে চলতে হবে। আড়াই মাসের আন্দোলনে এই বিষয়গুলি যে চোখে পড়েনি তা নয়। যে বিপুল সংখ্যক নাগরিক এই আন্দোলন কে সমর্থন করছেন এই সমাজ মাধ্যমের যুগে তাঁদের ও এই বিষয়গুলি এড়িয়ে চলা উচিত। এতে রাজ্যের ই মঙ্গল।