বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য : জার্নাল অফ ইকোনমিক্স, রেস অ্যান্ড পলিসি পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণমূলক সমীক্ষায় দেখা গেল ভারতে জাতিগত বৈষম্য কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। অর্থনীতির দুই গবেষকের এই বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে দলিত জনজাতির শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার উচ্চবর্ণের শিশুদের তুলনায় পঞ্চাশ শতাংশ। এক্ষেত্রে আফ্রিকার দরিদ্রতম অঞ্চলগুলির শিশুদের চেয়েও ভারতীয় দলিত জনজাতির শিশুরা পুষ্টির দিক দিয়ে পিছিয়ে। আর্থিক উন্নয়নে ভারত আফ্রিকার ওই দেশগুলির থেকে এগিয়ে থাকলেও অপুষ্টির নিরিখে ভারতীয় শিশুরা পিছিয়ে থাকা অত্যন্ত লজ্জার । ২০১৯-২১ সালের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার পরিসংখ্যানকে জাতের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন ওই দুই অর্থনীতিবিদ। তাতে দেখা যাচ্ছে ‘বিকশিত ভারতের ‘ এমন এক দরিদ্র সমাজ রয়েছে যার অধিবাসীরা তফসিলি ও জনজাতির মানুষ। তারা আফ্রিকার দেশগুলির অধিবাসীদের থেকেও দরিদ্র। শিশুদের এই দীর্ঘ মেয়াদী অপুষ্টির প্রকাশ হলো ‘স্টান্টিং’ । এই অবস্থায় শিশুদের বয়সের গড় উচ্চতার তুলনায় খর্বাকৃতি। এই ‘স্টানটিং’ হওয়ার সম্ভাবনা ভারতের উচ্চবর্ণ শিশুদের তুলনায় আফ্রিকার দেশগুলির শিশুদের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বেশি।অথচ ভারতের দলিত জনজাতির শিশুদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা আফ্রিকার দেশগুলির থেকে বেশি। ভারতের দুই সমাজের মধ্যে এই পার্থক্য ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে ভৌগলিক দূরত্বের চেয়েও বেশি। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় ভারত এখনো আর্থ সামাজিক বৈষম্য জাতিগত গন্ডিতেই অবস্থান করছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে দলিত জনজাতির মধ্যে দারিদ্র্যের হার তীব্র। এছাড়াও দলিত জনজাতির উপরে হিংসার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। ২০১৪ সালের এক সমীক্ষা দেখিয়েছিল চারজন ভারতীয়দের মধ্যে একজন এখনো কোনও কোনও গোষ্টী কে অস্পৃশ্য বলে মনে করেন।
শ্রেনী, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সব ভারতীয় শিশুর সমান সুযোগ ও অধিকার তৈরি করার দায়িত্ব সরকারের। এই লক্ষ্যে ২০১৩ সালে খাদ্যের অধিকার ও ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন পাশ হয়েছে। আইন পাশ হলেও দরিদ্র শিশুদের মধ্যে ক্ষুধা ও অপুষ্টি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প , মিড ডে মিল প্রকল্প ও খাদ্যের অধিকার আইনে বিপুল অর্থ খরচের কথা ঢালাও ভাবে প্রচার করে সরকার। অথচ দলিত জনজাতির শিশুদের অস্তিচর্মসার চেহারায় বদল আসে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা গিয়েছে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাতে পুষ্টিগুণের অভাব। সরকারি বরাদ্দ সুষম পুষ্টিগুণ যুক্ত খাদ্যের উপযোগী নয়।এর ফলে আইন বা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে ছবি টা বদলায় না।
‘বিকশিত ভারতের ‘ তফসিলি ও জনজাতির অধিবাসীরা ভয়ঙ্কর অপুষ্টির শিকার
