পিছিয়ে পড়া মানুষের নয়নের মনি সাংসদ সামিরুল ইসলাম

MP Samirul Islam meet with Toto Community

লেখক:- সুদীপ দাস

একটি যুবক যার দু চোখে স্বপ্ন বাংলার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধন, যিনি সর্বদা ছাত্রাবস্থা থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তকে হাতের তালুর মত চেনেন গণসংগঠনের একজন কর্মী হিসেবে সেই সামিরুল ইসলাম আজ বাংলায় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্য ও উন্নয়নের সুস্থ রাজনীতির এক অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে চলেছেন।

বাংলার জননেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই রত্ন চিনতে কোন ভুল করেননি, তাইতো শুধুমাত্র একজন শিক্ষিত যুবক কে রাজ্যসভার সদস্য করেই পাঠাননি , বরং তিনি তার জনজাতির মধ্যে ও ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব দিয়েছেন বিভাজনের রাজনীতিকে প্রতিহত করার কাজে। যেমন ধরুন অতি সম্প্রতি সদ্য ঘোষিত উত্তরবঙ্গের মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচনে একজন তারকা প্রচারক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন সাংসদ সামিরুল বাবুকে । সেখানে তথাকথিত তারকা প্রচারক হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যাদেরকে এ যাবত মানুষ দেখে অভ্যস্ত সেই দিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী রণকৌশল এই মানুষটির, যিনি মনে করেন তারকা প্রচারকের অর্থ এই নয় যে, বড় নেতা আসবেন তৈরি করা বাঁধা মঞ্চে বক্তব্য দেবেন ছবি তুলবেন ,বিশ্রাম নেবেন , ফিরে যাবেন , বরং তারকা প্রচারকের অর্থ হওয়া উচিত প্রত্যন্ত এলাকায় একেবারে তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকায় সরকারের কি ভূমিকা আছে বা কোথায় খামতি আছে বা কোন কোন সুযোগ সুবিধা গুলো থাকা সত্ত্বেও পাচ্ছেন না এইগুলির সঠিক বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা করা ।

ভারতের ক্ষুদ্রতম আদিবাসী যারা কিনা বৃহত্তর ইন্দো-মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর একটি বিচ্ছিন্ন শাখা “টোটো” যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি আছে যারা বসবাস করেন আলিপুরদুয়ার জেলার জলদাপাড়া অভয়ারণ্য এর সন্নিকটে চারিদিকে পাহাড়ি নদী বেষ্টিত একটি ক্ষুদ্র গ্রামে এই তথ্যটি তিনি আগে থেকেই অবগত ছিলেন তাই প্রচারের মাঝে মধ্যাহ্ন ভোজনের সময় আহার না সেরেই পৌঁছে গেলেন একেবারে তাদের বাড়ির উঠোনে শুনলেন অভাব অভিযোগের কথা কিছু স্থানীয় ইস্যুগুলোর সমাধান করলেন,

কিছু বড়ো ইস্যু সংশ্লিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিলেন মোটের উপর মন জয় করলেন চির অবহেলিত এক সমাজের আপামর সাধারণ মানুষ গুলোর যারা আত্মীয়ের মত মিশে গেলেন। ঠিক একইরকম কথা বলা যায় “বোড়ো” সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যারা আজ অত্যন্ত আশাবাদী এমন এক প্রকৃত জনদরদি নেতাকে কাছে পেয়ে।

শুধুই কি বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ? না ,তিনি সবার কথা ভাবেন সে গোর্খাই হোক আর্থিকভাবে উন্নত শ্রেণীই হোক বা সাধারণ হিন্দু সমাজই হোক ,সমাজের প্রতিটি স্তরে থাকা ভিন্ন আর্থ সামাজিক কাঠামোয় থাকা মানুষদের ভাবনা যেন তার র‍্যাড়ারের বাইরে যাওয়া অসম্ভব। কখনও বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বুথ কর্মীদের কাঁধে হাত রেখে বোঝাচ্ছেন কিভাবে মানুষকে উন্নয়নের ও ঐক্যের পক্ষে শুভ শক্তির সাথে থাকার কথা বলতে হবে ,

নেত্রীর প্রকল্পের কথা প্রচার করতে হবে তো কখনও আবার পূর্ব পরিচিত কোন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া। সব মিলিয়ে এ এক অনন্য প্রচার কৌশল যা আমরা সচরাচর দেখে অভ্যস্ত নই। রাস্তার দু’ধারে সারি সারি চা বাগান দেখে অভিভূত হয়ে কখনো বলছেন এখানকার শ্রমিকদের কথা ,

কখনো নেত্রীর চা-সুন্দরী প্রকল্পের কথা যাকে আরো নতুন পরিকল্পনায় সাজানো যায় কিনা সেই প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনায় মগ্ন। পরিশেষে একথা বলা যায় নির্বাচনের ফলাফল যাইহোক মাননীয় নেত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে এসে উত্তরবঙ্গের মানুষের আপনজন হয়ে রয়ে গেলেন যা পরবর্তী ক্ষেত্রে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *