বিশ্বগুরুর খোয়াবের মাঝে দুর্দিনের অশনি সংকেত

Crisis for common men

লেখক- বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

জলন্ত চুল্লিতে প্রবেশ আর থলি হাতে বাজারে প্রবেশ প্রায় সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষের উপার্জন বাড়ছে না, বৈষম্য বাড়ছে, বাড়ছে বেকারত্ব। অন্যদিকে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার ছবিটা খুব ই অস্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে গৃহস্থের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। রাষ্ট্রবিদ, অর্থনীতিবিদ দের টেবিলে ভারি ভারি আলোচনার তত্ত্ব জমছে কিন্তু সাধারণ মানুষের দিন যাপনের সুরাহার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।
ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সবারই পরিচয়। যদিও বিকশিত ভারত বা বিশ্বগুরু ভারতের স্লোগান তোলা সরকারের কাজে সেই পরিচয়ের নাম গন্ধ নেই। দেশ এগিয়ে চলার ঢাকঢোল পেটানো হলেও সরকারের এখনও আঠেরো মাসে বছর। অথচ সরকার পরিচালনায় নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট সময় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। খেত খামারে ফসলের গোড়া পোড়ানোর বিষয়েটিই দেখুন। মাঝ নভেম্বর থেকেই যার দাপটে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মানুষের ফুসফুস আক্রান্ত। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ৮ই নভেম্বর থেকে ১৯ শে নভেম্বরের মধ্যে ১৫,৪৭৫টি ফসলের গোড়া পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ১৫ ই সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই নভেম্বরের মধ্যে ওই সংখ্যা ছিল ১৩,২৩৮। এই পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ এবং দিল্লি এর ফল ভুগছে। এ ও জানা যাচ্ছে যে কৃষকরা ফসলের গোড়া পোড়ানোর সময়টাকেও পরিবর্তন করেছেন। এখন বিকেল বেলায় ফসলের গোড়া পোড়ানো হচ্ছে। কারণ ওই সময় ওই অঞ্চলে Nasa র উপগ্ৰহের নজরদারি থাকে না। তাই ফসলের গোড়া পোড়ানোর এই সময় বদল। এর ফলে যে ভয়াবহ দূষন ছড়াচ্ছে তার নব্বই শতাংশ শিকার হচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এই আক্রান্ত সমাজের মধ্যে সংখ্যায় বেশি হচ্ছে শিশু, মহিলা ও বয়স্করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন কৃষকদের থেকে শস্য সংগ্ৰহ দেরিতে করেছিল কেন্দ্র। ফলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গুদামগুলিতে সেই সংগ্ৰহের অনেকটাই রয়ে গিয়েছে। তাই সেখানে ঠাঁই নেই অবস্থা। ফলে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে যে চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে তাই রাখার প্রায় জায়গা নেই। এই কারণে শস্য সংগ্ৰহ ঢিমে তালে চলছে। শস্য সংগ্ৰহের ধীর গতির জন্য কৃষকরা ধান মাঠেই ফেলে রাখছিলেন। তবে মাঝে নভেম্বর থেকে গমের চাষ শুরু হয়। এই অবস্থায় মাঠের ফসল তোলা শেষ এবং নতুন শস্য বোনার সময়ের মধ্যে যে সম টুকু থাকে তা এবারে নেই। এখন গম চাষের জন্য কৃষকরা খেত পরিষ্কার করতে ফসলের গোড়া পোড়ানোর গতি বাড়িয়েছেন। তার ফল ভুগতে হচ্ছে সবাইকে।
সময়ের কাজ সময়ে না করায় আরও একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে dye ammonium phosphate আমদানির ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিতেও গড়িমসি করেছে কেন্দ্র। অথচ এই সার শস্য বীজ বপনের সময় অত্যন্ত জরুরি উপাদান। সার আমদানিতে দেরির ফলে সার বিক্রেতাদের ভাঁড়ারে টান পড়েছে। তাই বাজারের চাহিদার তুলনায় যোগান কম। চাহিদা ও যোগানের টানা পোড়েনে সরকার নির্ধারিত খুচরো মূল্যের থেকে বেশি দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। এর জেরে ফসলের দাম ও চড়ছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে আমজনতাকে