আরএসএসের আসল মুখ ও মুখোশ

লেখক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

RSS Ideology: সংঘ পরিবারের প্রধান মোহন ভাগবত সম্প্রতি যে তিরটি ছুঁড়েছেন তা কি নিশানায় বিধল? এই প্রশ্ন তুলে দিল সংঘের মুখপত্র অরগ্যনাইজার। কাশী, মথুরা, সম্ভল সহ উত্তর প্রদেশের প্রায় ৫০টি মসজিদ কে ঘিরে রাজনীতি পাক খাচ্ছে। ২০২২ সালে নাগপুরে আর এস এস কর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে ভাগবত বলেছিলেন, ” সব মসজিদে শিবলিঙ্গ খুঁজতে যাওয়ার কী প্রয়োজন রয়েছে? রামমন্দির আন্দোলন শেষ। নতুন কোনো আন্দোলন কে আর নেতৃত্ব দেবে না আর এস এস। সম্প্রতি পুনেতে সেই বার্তাই আবার দিয়েছেন ভাগবত। আগামী বছর আর এস এস এর একশ বছর পূর্তি হতে চলেছে। অনেকে মনে করছেন ভাগবতের এই বক্তব্যের ভিতরের অর্থ হলো আজকের দিনে ধর্মকে সামনে রেখে উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়। তাই সংগঠনের মূল সত্ত্বা বজায় রেখেই তিনি নতুন পথের সন্ধান করেছেন। মসজিদ ভেঙে মন্দির গড়লে যে রাজনৈতিক লাভ কতখানি তা রামমন্দির নির্মাণে পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু, ভেঙেচুরে সব দখল করার পথে লাগামহীন চলতে থাকলে সর্বজনীন গ্ৰহন যোগ্যতা থমকে যাবে। আর এস এস জানে আধিপত্য বজায় রাখার শ্রেষ্ঠ পথ সর্বগ্রাসী দখলের পরিবর্তে সংখ্যালঘুদের জন্য অধীনত্বমূলক নাগরিকের রাস্তা খোলা রাখা। তাই মনে করা হচ্ছিল মন্দির মসজিদ করে উগ্ৰ হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী যারা হতে চান সেই নেতাদের নিজের বক্তব্যে বার্তা দিতে চেয়েছেন ভাগবত। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাবরি মসজিদ ধ্বংস হয়েছিল। তবে, এই পরিকল্পনা আর এস এস শুরু করেছিল তার প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে। এই বিষয়টিকে হিন্দু আবেগের গন্ডিতে রেখে এখন অন্য পথে চলতে চাইছেন ভাগবত? এই প্রশ্ন জোর পায় বিজেপির বর্তমান ঘোষিত নীতির দিকে তাকালে। এখন নীতি গত অবস্থান হলো দল আর কোনো মন্দির মসজিদ বিতর্কে সরাসরি অংশ নেবেনা। কোনো বিতর্কিত কাঠামো নিয়ে মানুষ যদি আন্দোলন করে তার জনতার অধিকারের মধ্যে পড়ে। কিন্তু দল তাতে নাক গলাবে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে সংঘ প্রধান তাঁর বার্তায় কি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও গোরখনাথ মঠের প্রধান যোগী আদিত্যনাথ কে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন? অনেকে মনে করছেন, উত্তর প্রদেশে বিতর্কিত স্থান নিয়ে যা চলছে তার পিছনে যোগীর মদত রয়েছে। তাদের মতে যোগীর মুল লক্ষ্য হলো,” হিন্দু হৃদয় সম্রাট ” হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। যাতে ২০২৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দাবিকে আর এস এস বা বিজেপি উপেক্ষা করতে না পারে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি কে আরও জটিল করে তুলল অরগ্যনাইজার। সংঘ মুখপত্রের সর্বশেষ প্রকাশিত সংস্করণের সম্পাদকীয়তে সংঘ প্রধানের বক্তব্যের উল্টো পথে হাঁটা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ” বিতর্কিত কাঠামো বা স্থানের ঐতিহাসিক সত্যতা যাচাই করার পিছনে রয়েছে সভ্যতার ন্যায্য দাবি”। মুখপত্রের প্রচ্ছদ কাহিনীতে সম্ভল নিয়ে নিবন্ধের শাহী জামা মসজিদের চত্বরে “মন্দির” থাকার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, অরগ্যনাইজারের সম্পাদকীয় এবং প্রচ্ছদ নিবন্ধে বক্তব্যের উল্টো সুর ই রয়েছে। পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে, “কোনও ধর্মীয় স্থান যদি অতীতে আগ্ৰাসনের শিকার হয়ে থাকে তাহলে তার প্রকৃত ইতিহাস খুঁজে দেখা প্রয়োজন । সভ্যতার এই ন্যায্য দাবির খোঁজ করার প্রকৃত সময় এসেছে”।