লেখক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য
এক চিকিৎসক বন্ধুর কাছে তার এক রোগীর নির্মম পরিনতির কথা শুনে ছিলাম। সেই রোগী dementia তে ভুগছিলেন। Dementia তে আক্রান্ত রোগী নানান শারীরিক সমস্যার সঙ্গে ধীরে ধীরে স্মৃতি ভ্রংশ অবস্থায় পৌঁছে যায়। দিন , কাল, সময়, জ্ঞান ও স্মৃতি সবকিছুই মস্তিষ্কের কোষ থেকে মুছে যেতে শুরু করে। চিকিৎসক বন্ধুর সেই রোগী শেষ পর্যায় পৌঁছে শ্বাস কি করে নিতে হয় তা ভুলে গিয়েছিলেন। যার পরিণতি মৃত্যু। Dementia র এখনো পর্যন্ত সঠিক ওষুধ বা চিকিৎসা আবিষ্কার হয় নি। চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা সেই আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন রোনাল্ড রেগ্যান। Dementia তে আক্রান্ত হয়ে ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পরে রেগন কন্যা Dementia রোগের চিকিৎসা গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহে নামেন। সেই প্রচেষ্টার ফল হল RONALD REGAN UCLA MEDICAL CENTER । এটি আমেরিকার University of California র campus এ অবস্থিত।

১৯৫৫ সালে UCLA MEDICAL CENTER প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮ সালে এই centre টি প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের নামে নামকরণ হয়। এখন এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক গবেষকদের অনুসন্ধানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে Dementia রোগ ধনী, দরিদ্রের সীমারেখা জানে না। Ronald Reagan ছিলেন অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির দিক থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট। রাজনীতি তে আসার আগে হলিউডের নামী অভিনেতা ছিলেন। ফলে নিজেও যথেষ্ট অর্থ বান ছিলেন। তাঁর Dementia রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশে গবেষকদের সাম্প্রতিক সমীক্ষার ফলে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাবে। Universities of South America এবং Trinity College,Dublin এর যৌথ গবেষণায় জানা গিয়েছে সামাজিক বৈষম্যের কারণে মানুষের মস্তিষ্কে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে বার্ধক্যে Dementia রোগের। আরো জানা গিয়েছে নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশ গুলিতে বৈষম্য বেশি বলে সেখানে এই রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে।সম্প্রতি লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার মানুষের উপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার ফল ছাপা হয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত “Nature” পত্রিকায়। সেখানে গবেষকরা বলেছেন মস্তিষ্কের কোষের যে অংশ স্মৃতি রক্ষা ও বৌদ্ধিক কাজ করে সামাজিক বৈষম্যের প্রভাব সেখানে সরাসরি পড়ে। গবেষকদের মতে যে দেশে সামাজিক বৈষম্য যত বেশি সেখানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা ও বেশি। ভারতেও সামাজিক বৈষম্য যে ভাবে বাড়ছে তাতে এই তথ্যে যথেষ্ট আশঙ্কার কারণ রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও ধনীরা আরো ধনী হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের আয় আরো কমছে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশেই সামাজিক , আর্থিক বৈষম্য ও বেড়ে চলেছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিক ভাবেই চিকিৎসক বিজ্ঞানীরা বিপদ দেখছেন । তাই বিশ্বজুড়ে “Brain Health” এর সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তাঁরা বলছেন।
