Babul Supriyo Abhijit Ganguly Confliect: দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ওপর গাড়ি থামিয়ে দু পক্ষের মধ্যে চলছে বাক বিতন্ডা। গাড়ির দুই সওয়ায়রি একজন রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। অন্যজন বিজেপি সাংসাদ অভিজিত গাঙ্গুলি।
দুই হেভিওয়েট নেতার এ তর্কাতর্কির মাঝে কিছুক্ষণ যানজটের সমস্যা হয়। পথচারীরারা এই দৃশ্য হাতছাড়া করতে চাননি। মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্দী করেন। গাড়ি থেকে নেমে বাবুল সুপ্রিয় অভিযোগ করেন প্রাক্তণ বিচারপতি সাংসদ অভিজিত গাঙ্গুলি তাঁকে গালিগালাজ করেছেন। তাই অভিজিত বাবুকে সরি বলতে হবে।গাড়ি থেকে নামেননি অভিজিত বাবু।তাঁর গাড়ি ঘিরে ছিল নিরাপত্তায় থাকা সিআরপিএফ জওয়ানেরা। খবর পেয়ে হাওড়া সিটি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়।

ঘটনার সূত্রপাত লাল বাতি জ্বালিয়ে দ্রূত গতিতে গাড়ি চালিয়ে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিলেন বিজেপি সাংসদ অভিজিত গাঙ্গুলি।সেই সময় তার পাশ দিয়ে বাবুল সুপ্রিয় নিজেই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।বাবুল সুপ্রিয়।তার অভিযোগ হুটার বাজিয়ে প্রচণ্ড গতিতে একটি গাড়ি আসছিল সেটা তার গাড়িকে অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করে। বাবুল সে সময় মুখ বার করে অপর গাড়ির চালককে ঠিক ভাবে গাড়ি চালানোর কথা বলেন।” তৃণমূল বিধায়কের দাবি, সেই সময় দ্বিতীয় গাড়ির পিছন থেকে কেউ এক জন “চালা দে, চালা দে” বলে ওঠেন। অর্থাৎ, গাড়ি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন চালককে।এর পর দ্বিতীয় গাড়িটি কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর সেটিকে আবার থামান বাবুল। তাঁর দাবি, সেই সময় গাড়ির পিছনের আসনে বসে ছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ। গাড়িতেও ‘এমপি তমলুক’ লেখা ছিল বলে দাবি তৃণমূল নেতার। বাবুল জানান, তিনি সাংসদকে দেখতে পেয়ে গাড়ির পিছনের দিকে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। গাড়ির চালককে সঠিক ভাবে চালানোর কথা বলতে অনুরোধ করেন। বাবুলের দাবি, সেই সময় সাংসদ তাঁকে বলেন, “যা করেছে বেশ করেছে!” তাঁকে গালিগালাজও করা হয় বলে দাবি বাবুলের।
বাবুল সুপ্রিয় এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি এবিপি আনন্দে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “হাওড়ার দিকে আসছিলাম আমি। আমার একটু তাড়া ছিল। তাই হর্ন বাজানো হয়। হঠাৎ দেখি একটা গাড়ি আমার গাড়ি আটকে দাঁড়ায়। চিৎকার করে জানতে চচায় হর্ন দেওয়া হচ্ছে কেন। তাতে আমি বললাম, আবার হর্ন দাও। দেখি কী হয়। এর পর দেখলাম গাড়ি থেকে বাবুল সুপ্রিয় নেমে এলেন। আরও তিন-চারজন ছিলেন ওঁর সঙ্গে। নেমে এসে বাবুল আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি দিতে লাগলেন। গাড়ি কাচ ছিল। উনি হাত চালালেন। তাতে আমার মোবাইল পড়ে গিয়ে খারাপ হয়েছে। আমার সঙ্গ Y প্লাস ক্যাটেগরির সিকিওরিটি থাকে। ওরা বাবুলকে আটকান। অনেকক্ষণ ধরে চলছিল। আমাকে সরি বলতে বলেন। আমি জানিয়ে দিই, কিছুই বলব না আপনাকে। আপনাকে বিজেপি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে এখন পা ধরে রাজনীতি করেন। সেটাই করুন। আপনাকে আমি গ্রেফতার করাব। উনি উত্তেজিত হয়ে আরও জঘন্য কথা বলেন। আমি গাড়িতেই বসেছিলাম। নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। CISF না বললে নামি না। মানুষকে উত্তেজিত করছিলেন উনি। ওদের তো রাগ আছে! বহু লোককে চাকরি বিক্রি করেছিলেন। সেই চাকরি গিয়েছে। তা নিয়ে গালি দিলেন আমাকে। মাতাল হয়ে এসব করছিলেন। সেটা বললে আরও উত্তেজিত হয়ে যান।”
