বাংলার মুসলমানদের সম্পর্কে কাল্পনিক আশঙ্কা তৈরির চক্রান্ত চলছে

লেখক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য

সদ্য বিগত বছরের অগাস্ট মাস থেকে আর জি করের নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র জনরোষ দেখেছে কলকাতা। যার রেশ সদ্য জাত বছরের গায়েও লেগে রয়েছে। অনেকেই বলেছেন, নাগরিক সমাজের আন্দোলনে এমন তীব্রতা আগে কখনও দেখা যায়নি। অনেক পন্ডিতদের মত, নাগরিক সমাজে শাসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দানা বাধলে তাকে গতিশীল করে শাসক কে পর্যদুস্ত করা বিরোধী সংগঠিত রাজনৈতিক দলের কাজ। যেমনটা ২০১৪ সালে বিজেপি করেছিল। কংগ্রেস সরকারের দূর্নীতির বিরুদ্ধে আন্না হাজারের সামাজিক আন্দোলনকে তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে কংগ্রেসকে ধরাশায়ী করে ছিল গেরুয়া শিবির। আর এখানেই ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিম বঙ্গের বিজেপি সহ বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলি। কিছু অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে নাছোড় মনোভাবের জন্য ধামাচাপা দিতে না পারলেও এই সময়কালে দশটি বিধানসভা উপনির্বাচনে সবকটিতেই জিততে পেরেছে তৃনমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস এ রাজ্যে অনেক দিন আগে থেকেই মালদা, মুর্শিদাবাদের গন্ডিতেই সীমাবদ্ধ। সাম্প্রতিক লোকসভা ও তার পরবর্তী বিধানসভার উপনির্বাচনে সেই গন্ডিও ছোটো হয়েছে। আর বামেরা তো ২০১১ সালে রাজ্যপাট খোয়ানোর পর থেকে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্ব হীনতায় আন্দোলনের ঝাঁঝ হারিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্দি। এই পরিস্থিতিতে যার সামনে বিরোধী পরিসরের খোলা মাঠ পড়ে ছিল সেই বিজেপি ও ব্যর্থ। পশ্চিমবঙ্গে মানুষের ক্ষোভের মশলা মজুত থাকলেও তাকে রাজনৈতিক আতশবাজিতে পরিনত করতে পারে নি গেরুয়া শিবির।২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে বিজেপির ভোট সর্বোচ্চ সীমায় পৌছে কিছুটা নিম্নগামী। এই ভোটের কতটা হিন্দুত্ব রাজনীতির ফসল আর কতটা অন্য বিরোধীরা মৃয়মান বলে সেই ভোট বিজেপি পেয়েছে তা গভীর বিশ্লেষণের বিষয়। সেই কাজ নিশ্চয় ভবিষ্যতে হবে ‌। বিজেপি এই রাজ্যের ভূমিজ দল নয়। তাই তার গা থেকে বহিরাগতের ছাপ সহজে যাওয়ার নয়। বিজেপি যখন এই সংকট থেকে বেরোনোর রাস্তা খুঁজছে তখন তার সামনে মুশকিল আসানের মতো হাজির হয়েছে বাংলাদেশ। সে দেশে ছাত্র বিক্ষোভ থেকে যে আন্দোলনের শুরু আজ তার রাশ মৌলবাদীদের হাতে । মৌলবাদীদের দাপটে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার যত বাড়ছে এ পারে হিন্দু সংহতির রাজনীতির জমি ততই উর্বর হচ্ছে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে সেই রাজনীতির স্বর ততই চড়বে। এই পরিনতির দিকনির্দেশ ক্রমশই স্পষ্ট হচ্ছে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে। রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্যে এখন শাসকের দূর্নীতির অভিযোগগুলি গৌন। তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশের ঘটনা তুলে এপারে সাম্প্রদায়িকতা কে জাগিয়ে তোলার বিষয়টিই মুখ্য। বাংলার মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে কাল্পনিক আশঙ্কা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেই চেষ্টাবৃক্ষ তে যে ফল ধরছে না, তা নয় । বাংলায় কিছু দিন আগেও যাঁরা এই বিষয়গুলিকে অ-পছন্দ করতেন বা খুব একটা আমল দিতেন না তারাও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে মৌলবাদীদের রোষ দেখে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন। ফলে বলাই যায় রাজ্যে বিজেপি তার জমি বাড়ানোর জন্য উৎসাহ পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *