গ্রামের কৃষক পরিবারে নীরব বিপ্লব ঘটাতে অভিনব উদ্যোগ অধীতি এডুকেশন ট্রাস্টের

Kisan Morcha : গ্রামের কৃষক ও কৃষি শ্রমিক পরিবারের পড়ুয়াদের বিনামূল্যে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা এবং প্রাথমিক, মধ্য ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপযোগী শিক্ষা ও ইংরাজী শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষক সংগঠন  অধীতি এডুকেশন ট্রাস্ট।কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলেন পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

সংবাদমাধ্যমের সামনে ট্রাস্টি কৃষক নেতা অভীক সাহা বলেন তাদের সংগঠন  মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বরাজের মডেল অুসরণ করে গ্রামকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছেন।তিনি জানান ধুলোমাটি নামে প্লে-স্কুল এবং স্লেটপেন্সিল এবং চকখড়ি  নামে অ্যাক্টিভিটি সেন্টার খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম এবং উত্তর ২৪ পরগনায় এই ধরনের ৫০টি স্কুল খোলা হয়েছে। ১৩০০-এরও বেশি গ্রামীণ শিশু এখন প্লে-স্কুলে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে এবং সর্বোচ্চ স্তরের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৫০০-এ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। ইতিমধ্যেই ১০০ জনেরও বেশি স্থানীয় মহিলাকে শিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সম্মানজনক বেতন পাচ্ছেন  এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শিক্ষকদের ইংরেজি ভাষায় কথা বলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রম ক্রমাগতভাবে বিকশিত হচ্ছে। ইটভাটার শ্রমিকদের সন্তান, যাদের শিক্ষার সুযোগ নেই তাদের এখন শিক্ষার অধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা বিপ্লবের চেয়ে এটি কোন অংশেই কম নয়,  যার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগের সমতা আনা হবে  এবং বাংলার সমস্ত শিশু একসাথে বাংলার ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারবে।”

তেজবিন্দর সিং চাঠঠা  বলেন “একজন গ্রামীণ উদ্যোগপতি  হিসেবে আমাকে   নিয়মিত গ্রামীণ মানুষের সাথে ওঠাবসা  করতে হয় এবং গ্রামীণ বাংলার বাংলার মানুষ যে বিরাট হতাশার মুখোমুখি,  তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। গ্রামের কোনও কিশোর-কিশোরী গ্রামে থেকে সম্মানজনক জীবনযাপনের স্বপ্ন আজকাল দেখে না। তাদের আকাঙ্ক্ষা শহরে চলে যাওয়া। এই শিক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে, আমরা আশা করি যে গ্রামের শিশুরা শহরের শিশুদের সমান হবে।”

 কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবি জয়তী  সাহা বলেন “ধু যদি যদি আমরা সবাই গোটা সমাজ হিসেবে এই স্বপ্ন দেখার সাহস দেখাতে পারি, তবে অবশ্যই লোমাটি, স্লেটপেন্সিল এবং চকখড়ি এক বাস্তবসম্মত স্বপ্ন। এই উদ্যোগটি কেবল শিক্ষিত করার জন্য নয় বরং গ্রাম এবং শহরের মধ্যে সমতা আনার জন্য।

অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর পৃথা রায় সাহা বলেন: “কথ্য ইংরেজি একটি বড় পার্থক্য তৈরি করবে, তবে এই উদ্যোগ শিশুদের আরও ভালো শৈশব দেবে। প্রতিটি ধুলোমাটি  স্কুলে ধুলোমাটি খেলাঘর নামে একটি খেলনা এবং বই ধারক লাইব্রেরি রয়েছে। এই উদ্যোগে শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ভাবে অসাধারণ সাড়া পাওয়া গেছে।