কুমিল্লায় শহীদ বেদি ভেঙে দিল দুর্বৃত্তরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করা অপরাধ আশঙ্কা তসলিমা নাসরিনের

Bangladesh 21 February 2025

একুশের ভাষা আন্দোলনের যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে সেই একুশের অমর শহীদের শ্রদ্ধা নিবেদনে তৈরি শহীদ বেদি ভেঙে দিল একদল দুর্বৃত্ত। এই ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন কাঁদো বাংলাদেশ কাঁদো।

 লজ্জাজনক এই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের কুমিল্লার চোদ্দগ্রাম গুনবতী ডিগ্রী কলেজে।বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে ঘটনাটি। বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে কলেজের শিক্ষকরা এবং পরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজ চত্বরের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান ।রাত আনুমানিক ২টার দিকে বিকট শব্দ পাওয়ার পর কলেজের নৈশপ্রহরী শহীদ মিনারের কাছে গিয়ে দেখেন তিনটি স্তম্ভের দুটি ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন এবারের অমর একুশে কি হতে চলেছে বাংলাদেশে তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর দুশ্চিন্তা তুলে ধরেছে। বাংলাদেশ আজ পাকিস্তানিদের হাতে চলে যেতে বসেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন

“বাংলাদেশের সরকার পাকিস্তানপন্থী। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাত্তরে যে যুদ্ধ হয়েছিল, এই সরকার সেই মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করে না, সে কারণে ধূলিসাৎ করেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রায় সব জাদুঘর, ভাস্কর্য, স্মৃতি। আমার আশঙ্কা দেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস একুশে ফেব্রুয়ারির উৎসব ঘটা করে করবেন না, যদি করেনও, তা হবে নিতান্তই লোক দেখানো। বাংলাদেশের সর্বত্র এখন জিহাদি তাণ্ডব চলছে, জিহাদিরা সুফিদের যত মাজার ছিল দেশে, ভেঙে ফেলেছে। তারা কিন্তু চায় শহীদ মিনার গুঁড়ো করে ফেলতে, যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতা শেখ মুজিবের ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়িটি গুঁড়ো করে ফেলেছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ইতিমধ্যে কোথাও মকর সংক্রান্তি করতে দেয়নি, বসন্ত উৎসব করতে দেয়নি, লালন স্মরণোৎসব করতে দেয়নি, বাউল মেলা করতে দেয়নি। এমনকী বিজয় দিবসও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মানসহ পালন করতে দেয়নি। যে বাংলা ভাষার জন্য বাঙালি রক্ত দিয়েছিলেন ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে, সেই বাংলা ভাষাকে ভালবেসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটিও আজ উচ্চারণ করা নিষেধ। এমন দমবন্ধকর পরিবেশে এবার একুশে ফেব্রুয়ারি বা ভাষা দিবস আদৌ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা সম্ভব হবে কি না, এ নিয়ে ঘোর সংশয় আমার।”