নির্বাচন কমিশনের মদতে বাংলার ভোটার লিস্টে কারচূপি করা হচ্ছে দুটো এজেন্সিকে পাঠানো হয়েছে বিরাট অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

TMC meeting

কলকাতা

কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের আয়ু দু থেকে তিন বছরের বেশি নেই। বিজেপি যে কোন মূল্যে বাংলা দখল করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের ভরা কর্মী সভায় কর্মীদের অভয় ও সতর্ক করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের মদতে বাংলার ভোটার লিষ্ট কারচূপি করার কাজ চলছে। কায়দা করে একই ব্যক্তির নাম বাংলার পাশাপাসি অন্য রাজ্যের ভোটার লিষ্টে তোলা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই দু জায়গায় নাম থাকার কারণে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ে যাবে। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ এসব কাজ করার জন্য দুটো এজেন্সি পাঠানো হয়েছে বাংলায়। সেই এজেন্সী দুটির নাম করে তিনি বলেন,“আমি যতদূর খবর পেয়েছি। ওরা বাংলায় এজেন্সি পাঠিয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন অব বিলিয়ন মাইন্ডস’ ও ‘কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ সাবসিডিয়ারি’ নামে দুটি এজেন্সি আছে। এখানে ওদের অনেক লোক পাঠিয়েছে। তারা ডেটা অপারেটরদের কাছে গিয়েছে। ফিল্ড সার্ভে করেনি। অনলাইনে কারসাজি করেছে। একই এপিক কার্ডে বাইরের লোকের নাম তুলেছে। মমতার দাবি, বাংলার লোক যখন ভোট দিতে যাবে, বাইরে থেকে এসে কেউ ভোট দিয়ে দেবেন।”

ভোটার লিস্ট হাতে নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, ‘একই এপিক নম্বরে বাংলার ভোটারদের যাঁর নাম আছে, সেখানে হরিয়ানা, পঞ্জাব থেকে সব নাম ঢুকিয়েছে। এবার ভাবুন কারা ভোট দেবে? এই লিস্টটা দেখছেন সব হরিয়ানা। একই এপিক কার্ডে কোথাও হরিয়ানা, কোথাও গুজরাত, গঙ্গারামপুর থেকে ঢুকিয়েছে। সব গুজরাত, হরিয়ানা থেকে। অনলাইন, ভোটার লিস্ট দিলিলী থেকে করছে। ইলেকশন কমিশনের অফিস থেকে বসে। এই ভাবে দিল্লিকে, মহারাষ্ট্রকে হারিয়েছে। ওরা এই খেলাটা ধরতে পারেনি। আমরা পেরেছি। চালাকিটা বুঝতে পারছেন? আমি কিন্তু আপনাদের রহস্যটা উন্মোচন করে দিলাম। এর পরের কাজটা আপনাদের। বাংলার মানুষকে বলব, আপনি দেখে নিন ভোটার লিস্টটা। না হলে NRC করে সরিয়ে দেবে। ডেটা অপারেটরদের লক্ষ্য রাখুন।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যয় সতর্ক করে বলেন, ‘আমি রহস্য উন্মোচন করলাম। এবার দায়িত্ব আপনাদের। বাংলার মানুষকে বলব ভোটার লিস্ট দেখে নিন। নাহলে এনআরসি করে সরিয়ে দেবে। আপনাকে ছাঁটাই করবে। এটা হচ্ছে ইসি’র আশীর্বাদে। ডেটা অপারেটরদের লক্ষ্য রাখুন। অনেক জায়গায় মিষ্টির প্যাকেট গিয়েছে। আমি হাতেনাতে ধরব। জেলাশাসকদের দেখার দায়িত্ব ছিল। ভোট আসলেই ইসি তাঁদের ধমকে চমকে রাখে। এত ভয়ের কী আছে। ওদের আয়ু দু-তিন মাস। আমরা ৫ বছর আছি। সেই কাজ শুরু হবে ভোটার লিস্ট দেখে।’