লেখক বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য
” Vaidya asked me (Datta Kelkar) , is not the woman sitting under the bridge the wife of R B More? Several beggars used to take shelter under that bridge. Why should RB More ‘s wife be sitting there? As I was thinking thus, Vaidya cried out in a concerned tone, ‘Hey it is she ‘. We both approached her. Next to her there were two or three tin boxes, a rack with cooking pots, and a little boy. The lady told us , ‘we had not paid the rent, had we? So the bailiff from the court threw us out. My husband has gone to look for another room. Until then I will wait here’ Vaidya could not hide the tears that came to his eyes” আর বি মোরের মরাঠি ভাষায় লেখা বইয়ের ইংরাজি অনুবাদ, ‘Memoirs of a Dalit Communist’ এর সম্পাদক অনুপমা রাও বইটির ভূমিকায় উপরের কথাগুলি লিখেছেন। সেদিন ব্রিজের নিচে ঠেলাগাড়িতে মায়ের পাশে বসে থাকা ছেলেটি আর বি মোরের পুত্র এস আর রাও। সেই ছেলের কাছেই উপরের দুই কম্যুনিস্ট নেতার কথপোকথন পেয়েছেন অনুপমা রাও। আম্বেদকরের মতো দলিত মাহার সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন আর বি মোরে। তাঁর ও ছিল অসাধারণ প্রতিভা। অস্পৃশ্যতার অন্ধকারে থেকেও স্কুলে পড়াশোনার রাস্তা খুলেছিলেন বৃত্তির জোরে। সীমাহীন দারিদ্র্য তাঁকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ করতে দেয়নি। কিন্তু অসাধারণ চারিত্রিক গঠন, অসীম সাহস, অনমনীয় মর্যাদা বোধ, এবং সমাজ বদলের অমলিন স্বপ্ন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে ছিল। গত শতকের তিন থেকে ছয় এর দশকের পর্যন্ত দলিত এবং কম্যুনিস্ট আন্দোলনের ঢেউ এর নীচে এরকম অনেক রত্ন ছিল।

প্রথমে আম্বেদকরের নেতৃত্বে দলিত আন্দোলন পরে কম্যুনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী। দিন থেকে রাত নিদারুণ দারিদ্র্য বিশ্বাস বা মতাদর্শ থেকে সরাতে পারেনি দলিত কম্যুনিস্ট আর বি মোরে কে। তৎকালীন বোম্বেতে কম্যুনিস্ট কর্মী হিসেবে শ্রমিক সংগঠনে এবং দলিত আন্দোলনে তাঁর অবদান আমরা যে ভুলে গেছি তার লজ্জা কোনো বিকশিত ভারত বা গর্বিত ভারত ঢাকতে পারবে না।সম্প্রতি সিপিএমের ২৭ তম রাজ্য সম্মেলনে দলের সর্বক্ষণের কর্মী সংখ্যা কমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই খবর শোনার পরেই আর বি মোরে কে আবার মনে পড়ল।

দলীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলায় এখন সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মী সংখ্যা ১৪২৮। বিগত রাজ্য সম্মেলনে যা ছিল তার চেয়ে কমেছে। মোরের সময় কম্যুনিস্ট পার্টি জমি শক্ত করতে অসংখ্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়েছে। আজ সর্বভারতীয় স্তরে প্রাসঙ্গিকতা কমা বা কেরল ছাড়া আর কোনও রাজ্যে ক্ষমতায় না থাকলে ও সেদিনের সঙ্গে আজকের পার্টির সবদিক থেকেই পার্থক্য রয়েছে। পার্টির মধ্যে অনেক স্তর তৈরি হয়েছে। পালাক্রমে কেরলে ক্ষমতায় থাকা এবং পশ্চিমবঙ্গে সাতের দশক থেকে টানা ক্ষমতায় থাকার ফলে বুর্জোয়া বিচ্যুতির কথা স্বীকার করে নয়ের দশকে শুদ্ধিকরণ দলিল তৈরি করতে হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারে এক অংশের নেতা কর্মীর ফুলে ফেঁপে ওঠা বন্ধ করতেই দলিল । লক্ষ কতটা পুরণ হয়েছে তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। তবে, তারপরেও বিগত দশকে পার্টি চিঠিতে লিখতে হয়েছে ‘ কর্মীরা সঠিক হারে লেভি দিন ‘।

সিপিএমের সর্বক্ষণের কর্মীরা দলীয় তহবিল থেকে ভাতা পান। আর যারা অন্য কাজ করে দলের সঙ্গে যুক্ত তারা ‘লেভি’ দেন। অর্থাৎ, সেই কর্মীদের একাংশ উপার্জনের হার অনুসারে ধার্য লেভি দেন না। অর্থাৎ, কমরেডদের মধ্যেই সহমর্মিতার অভাব। শুধু কি তাই, দলের সর্বক্ষণের কর্মীদের মধ্যেও স্তরভেদ রয়েছে। অনেক সর্বক্ষণের কর্মীদের পরিবারের জন্য দল ‘ক্ষমতায়’ থাকার সুবাদে জীবনধারণের ‘ব্যবস্থা’ করে দিয়েছে। অনেকে তা পাননি। তাদের পরিবার বা সন্তান পালনের দিকটি অনিশ্চিত। এখন সঙ্গতি না থাকলে সর্বক্ষণের কর্মী থাকাটা নিদারুণ সংকট। তিন দশক আগে বারানসি বেড়াতে গিয়ে ছিলাম। বিশ্বনাথ মন্দিরের সামনে এক পান্ডা আমায় বলেছিলেন ” ব্রাহ্মণ কে কিছু দাও তোমার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করবো, তোমার বাড়ি, গাড়ি হবে”। আমি বলেছিলাম, তাহলে নিজের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করো, তোমার ও বাড়ি, গাড়ি হবে, তাহলে তো আর হাত পাততে হবে না। শুনে সে পান্ডা আমাকে মারতে এসেছিলেন । আজ যদি কম্যুনিস্ট পার্টির কোনো সর্বক্ষণের কর্মী খেটে খাওয়া গরিব গুর্বো মানুষকে বলেন কম্যুনিস্ট পার্টি ই পারে তাদের দিন বদলাতে তখন যদি শোনেন তোমার নিজের ই তো বেহাল অবস্থা তাহলে তোমার পথে গেলে আমাদের কি ভাবে দিন ফিরবে? এর উত্তর কি হবে আমার জানা নেই ।
