আগাগোড়া বিতর্কের কেন্দ্রে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তবু বার বার পার পেয়ে যান কেন

MLA Humayun Kabir

নিজস্ব প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুসলিম বিধায়কদের উদ্দেশ্যে বেলাগাম মন্তব্য করে বলেছিলেন , ‘২০২৬-এ বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের জয়ী মুসলিম বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে বাইরে ছুড়ে ফেলা হবে।’ সেই মন্তব্যের পাল্টা ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মন্তব্য করে বলেছিলেন ‘একটা বিধায়ককে চ্যাংদোলা করে দেখাক। কত হিম্মত দেখব।’ এরপরেই তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কাছে আগে আমার জাতি, তার পর দল। আমার জাতিকে আক্রমণ করলে আমি চুপ থাকব না।’ হুমায়ুনের এই মন্ত্ব্যবে দলের মধ্যেই শোরগোল পড়েছিল। শুক্রবার বিধানসভার পরিষদীয় দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ভরতপুরের বিধায়ককে শো-কজ় করেছে। ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য।সন্তোষজনক জবাব না পেলে দল থেকে সাসপেন্ড করাও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব হবে কারণ এর আগেও বার বার অভিযোগ উঠলেও দল সর্তক করলেও ব্যবস্থা নেয়নি।

স্রোতের বিরুদ্ধে বার বার লড়াই করেছেন হুমায়ুন কবির।একনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা থেকে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের জেরে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদাব আবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ভরতপুর তৃণমূল বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন।কিন্তু বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত করা যায়নি হুমায়ুন কবিরকে।দল বার সতর্ক করেছে কিন্তু ভরতপুরের বিধায়ককে কড়া শাস্তির আগে দশবার ভাবতে হয়েছে দলকে।

একদিকে সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সব কিছুর মধ্যেই রাজ্যের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করে বাংলায় ধর্মীয় বিভাজনের প্রবল চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন ।সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে এসেছেন। সেই জায়গায় হুমায়ুনের মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্ঠার বিরোধী উদাহরণ হিসাবে বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলেন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য যা রাজনীতি তোলপাড় তুলেছে। ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নিজের ভাইপোকে রাজা বানাতে চাইছেন’’ বলে মন্তব্য করে দল থেকে এক বার সাসপেন্ড হয়েছিলেন।২০২৪ লোকসভা ভোটের প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে কার্তিক মহারাজের সঙ্গে বিরোধ অনেক দূর গড়িয়েছিল।কয়েক মাস আগে মুশিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হবে বলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সবেশেষে ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করতে হবে’’ একাধিকবার  মন্তব্য কর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী তাঁকে ‘শোকজ়’ করেছিলেন। হুমায়ুন ক্ষমাপ্রার্থনা করে চিঠি দিয়ে সেই বিতর্কের অবসান ঘটে।

কিন্তু এবার কি নিস্তার পাবেন হুমায়ুন কবীর। প্রশ্ন হচ্ছে হুমায়ুনের বার বার বিতর্কিত মন্তব্যের পর ও দল কেন কঠিন অবস্থান থেকে বিরত থাকে তার প্রধান কারণ। মুর্শিদাবাদের অন্য নেতাদের চেয়ে হুমায়ুন কবিরের জনভিত্তি অনেক বেশি। বরাবর মাটির সঙ্গে যোগ রয়েছে। তাঁর দাবাং ইমেজের জেরে ভরতপুর থেকে বহরমপুর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অংশে ভাল প্রভাব রয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে অধীর চৌধুরী চৌধুরীর পরাজয়ের পিছনে হুমায়ুন কবিরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত সংখ্যালঘু প্রধান মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারীকে পাল্টা বলার মধ্যে তার সাহস আছে বলে মনে করছে। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর বেলাগাম মন্তব্য নিয়ে বিজেপির কেন্দ্র থেকে রাজ্য কেউ কোন নিন্দা করতে দেখা যায়নি। তাই হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাবতে হবে।