ডেউচা পাঁচামির বাসিন্দারা শিল্প চাই চাকরি চাই রাজ্য সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবিতে সিউড়িতে প্রতিবাদ মিছিল জেলাশাসকের আশ্বাস

Dycha Pachami Coal Block

তারিক আনোয়ার

বীরভূম ২১ মার্চ:-

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকে ডেউচা পাঁচামি কয়লা খনি প্রকল্প কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার পর পরই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একদিকে ব্যাসল্ট উত্তোলনের জন্য জোর কদমে কাজ চলছে।অন্যদিকে প্রকল্প এলাকার মধ্যে কয়েক শো মহুয়া গাছ তুলে অন্যত্র বসানো হচ্ছে। কাজ শুরুর পর থেকে একাধিকবার বিভিন্ন আন্দোলন ও জারি আছে। তবে দেউচার স্থানীয় বাসিন্দারা যেমন শিল্পের বিরোধী নয়। তাঁদের মূল দাবী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সরকারের প্রতিশ্রূতি মতো অবলম্বে সরকারি চাকরীর ব্যবস্থা করতে হবে।

শুক্রবার এই দাবীকে সামনে রেখেই শিল্প এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দারা সিউড়িতে প্রশাসনিক ভবনে বাইরে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।পরে জেলাশাসক বিধান রায় বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দাবী পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।   বিক্ষোভকারীদের দাবি এখনো পর্যন্ত ৭ হাজার জন জমির বিনিয়ে চাকরির আবেদন জানালেও প্রায় ১৬০০ জনের পুলিশ এবং গ্রুপ ডি তে চাকরির নিয়োগ হয়েছে। বাকিদের দ্রুত নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

 তাদের অভিযোগ বাইরে থেকে আসা কিছু বাম ও অতিবাম সংগঠন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তিমূলক প্রকল্প বিরোধী ভুল তথ্য প্রচার করে আদিবাসীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করছে। এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচার রুখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।

জেলাশাসক বিধান রায় আশ্বাস দিয়েছেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যাদের নিয়োগ বাকি আছে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়েছেন যেহেতু খোলা মুখ কয়লা খনি হচ্ছে না তাই প্রথম পর্যায়ে জনবসতি উচ্ছেদের কোন প্রশ্নই নেই।

বিশেষ সূত্রের খবর কলকাতায় কিছু রাজ্য সরকারের বিরোধী সংগঠন এই কয়লা প্রকল্পের বিরোধিতা করার জন্য বিভিন্ন চক্রান্ত করছে। মিছিল করছে। যদিও প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের দাবি যাদের প্রকল্প এলাকায় জমি জায়গা আছে তারা এই প্রকল্পের পক্ষে আছে। তাই এলাকাবাসীরা কেউ কলকাতায় কয়লা বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয় নি। কিছু মানুষজন যদি গিয়ে থাকে তারা প্রকল্প এলাকার বাইরের বাসিন্দা।

 এলাকার বাসিন্দা শিবরাম হেমরম, মাঝি বাবা রবি টুডুদের দাবি,”আমরা প্রথম থেকেই প্রকল্পের সহযোগিতায় আছি। এ প্রকল্প হলে এলাকার উন্নয়ন হবে সেটা আমরা জানি। কারণ এই এলাকার জমি হচ্ছে অনুর্বর যেখানে চাষাবাদ হয় না বললেই চলে। তাই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় মানুষজন স্বেচ্ছায় জমিয়ে দিয়েছে। এদিকে কিছু বহিরাগত মানুষজন এলাকায় গিয়ে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে। সরকার জোর করে জমি কেড়ে নিচ্ছে এই মিথ্যা রটনা করছে।

জেলাশাসক বিধান রায় বলেন,”এলাকার মানুষ চাকরির জন্য এদিন দরবার করেছে। তাদের যাতে দ্রুত চাকরি হয় সে বিষয়ে প্রশাসন সব ব্যবস্থা করছে। বর্তমানে খোলা মুখ কয়লা খনি হচ্ছে না। তাই উচ্ছেদে এর কোন প্রশ্ন নেই।