বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর আক্রমণ বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন সাংসদ সামিরুল ইসলাম

Samirul Islam Letter to Amit Sha

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি আনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ মালদা সহ বিভিন্ন জেলা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়া সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপরেই আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। তাদের বাংলাদেশী বলে প্রচার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত গুজরাট ওই সাথে এই ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

ইতিমধ্যেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিয়েছেন লোকসভার সংসদ ইউসুফ পাঠান। শনিবার রাজ্যসভার সাংসদ পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম একই দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হস্তক্ষে দাবী করেছেন। সামিরুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছেন কিভাবে গুজরাট ওড়িশায় নৃশংস ভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র থেকে তাদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি আধার কার্ড থাকলেও সেই কার্ড কেড়ে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে বা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের থাকার জায়গা থেকে বিতাড়িত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তাদের উপরেই নারকীয় অত্যাচার চলছে।

সামিরুলের পরিষ্কার বক্তব্য দেশের যেকোন প্রান্তে যে কোন নাগরিকের কাজ করার অধিকার আছে। এই নিয়ে একাধিকবার তিনি সংসদে ঝড় তুলেছিলেন। উল্লেখ করেছিলেন কিভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। বাংলায় কথা বললে তাদের অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী তকমা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে যেভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে তা যথেষ্ট উদ্বেগের। উড়িষ্যায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। কয়েক মাস আগেও বাংলার বহু শ্রমিককে উড়িষ্যা থেকে মারধর করে বের করে উড়িষ্যা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টি সাময়িকভাবে থামলেও নতুন করে আবার শুরু হয়েছে। এই ভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করে তাদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়ে অলআউট প্রতিবাদে নামতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।
প্রসঙ্গত সাংসদ হওয়ার অনেক আগে থেকেই সামিরুল ইসলাম বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে তার সংগঠন বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চের মাধ্যমে বিপদে আপদে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর বর্তমানে পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের মাধ্যমে বিপদে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সব রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সারাক্ষণ বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে আছেন সামিরুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কে বাংলার দুই সাংসদদের হস্তক্ষেপের দাবি নিঃসন্দেহে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়ালো। এখন দেখার কেন্দ্র কতটা কার্যকারী ভূমিকা গ্রহণ করে।