কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হাতে ২৬ জন পর্যটক নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মীরি এবং মুসলমানদের উপর আক্রমণ ও ঘৃণা ভাষণ দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যায়। ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের একটি প্রতিবেদন অনুসারে ২২ শে এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশের নটা রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে ৬৪ টি ঘৃনা ভাষণ নথিভুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে । পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিভিন্ন সভায় ঘৃণা ভাষণ ও ভয় দেখিয়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিভিন্ন গুলির অধিকাংশ উদ্যোক্তা ঠিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, অন্তরাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ, রাষ্ট্রীয় বজরং দল, হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি, হিন্দু রাষ্ট্র সেনা, হিন্দুরক্ষা দলসহ বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলি। এই ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা এবং অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। পাশাপাশি মুসলিমদের সামাজিক বয়কট ও অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দিয়েছে তারা। রিপোর্টে বলা হয়েছে মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সংখ্যাটা ১৭ টি। তারপর রয়েছে উত্তরপ্রদেশে ১৩। উত্তরাখণ্ডে ৬ হরিয়ানায় ৬ রাজস্থানে ৫ মধ্যপ্রদেশে ৫ হিমাচলপ্রদেশের ৫ বিহারে চারটি এবং ছত্রিশগড়ে করে দুটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।রির্পোটে উল্লেখ করা হয়েছে মুসলিমদের সম্পর্কে বিভিন্ন সমাবেশে যেসব ঘৃণা ভাষণে উল্লেখ করা হতো যে শব্দগুলি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সবুজ সাপ, শুয়োর, পোকামাকড়, পাগলা কুকুর প্রভৃতি। পাশাপাাশি মুসলিমদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে দেখা গেছে। যেমন বিজেপি বিধায়ক নন্দকিশোর গুজ্জর মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার ডাক দিয়েছিল এমনকি তাদের বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া হয়।এছাড়াও হরিয়ানায় এক মুসলিম বিক্রেতাকে রাস্তায় আক্রমণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ও কাশ্মীরি শাল বিক্রেতার উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। উত্তরাখণ্ডে এক বিজেপি নেতার হুমকি পাশাপাশি একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর কুড়ুল দিয়ে হামলা করা হয়। আক্রমণের সময় ওই আক্রমণকারীকে বলতে শোনা গিয়েছিল ২৬ জন মারা গেছে তোমাদের ২৬ জনকে মারা হবে। এই রিপোর্টে বলা হয়েছে এই ঘটনাগুলি রীতিমতো সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করা হয়েছে কিংবা ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে ভয়ের বাতাবরন তৈরি করা।
