Bengal Migrant Worker Treat Bangladeshi
নিজস্ব প্রতিবেদন :
মুর্শিদাবাদের নাজিমুদ্দিন মন্ডল , বেলডাঙ্গার মিনারুল শেখ ও পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের মোস্তাফা কামালকে বিএসএফ জোর করে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে সীমান্তে পার করে দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোধ্যায়ের উদ্যোগ বাংলাদেশ থেকে ফেরানো সম্ভব হল। এ ভাবে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো চক্রান্ত চলছে।
মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, দিল্লীসহ বিভিন্ন শহরে অবৈধ বাংলাদেশীদের ধড়পাকড় করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাদের বাংলাদেশী বলে জার করে সীমান্তের ওপারে পাঠানো হচ্ছে তাদের সবাই যে বাংলাদেশি নয় অধিকাংশই ভারতের বাসিন্দা তা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। কদিন আগেই আসাম থেকে বাংলাদেশি বলে বেশ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে জোর করে পার করে দেয় বিএসএফ। আবার ওপারে বিডিআর ও বাংলাদেশের মানুষ কোন ভাবেই তাদের বাংলাদেশি বলে স্বীকার করেনি। শেষে বাধ্য হয়ে আবার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ। পরে অনুসন্ধান করে জানা যায় তারা আদতে আসামেরই বাসিন্দা।

এবার একই ঘটনার শিকার হতে হল পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষেত্রে।মুম্বাইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন মালদা, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানের বেশ কয়েক জন যুবক। তাদের বাংলাদেশি সন্দেহ আটক করে মুম্বাই পুলিশ। উদ্বিগ্ন তাদের পরিবারের লোকজন ১০ ই জুন পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে । পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ড ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মুম্বাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে আটক শ্রমিকদের পরিবারের কাছ থেকে ভারতীয় নাগরিত্বের যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও মুম্বাই পুলিশকে পাঠানো হয় ।
কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পুলিশ এবং পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ড কে কিছু না জানিয়ে তাদের মধ্যে থেকে ৫ জনকে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং বিএসএফ তাদের মারধোর করে জোর করে পশ্চিমবাংলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে জোর করে পাঠিয়ে দেয় ।

সহায় সম্বলহীন অসহায় এই শ্রমিকদের খবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁচ্ছানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহন করেন।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকার , পুলিশ ও পরিযায়ী শ্রমিক বোর্ডে লাগাতার ফিরিয়ে আনার চেষ্ঠা চালিয়ে যায়।অবশেষে চাপে পড়ে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। মুর্শিদাবাদের নাজিমুদ্দিন মন্ডল , বেলডাঙ্গার মিনারুল শেখ ও পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের মোস্তাফা কামালকে ফ্ল্যাগ মিটিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। আরো দুজনকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে ।
প্রশ্ন থেকে গেল সমস্ত বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কিভাবে মুম্বাই পুলিশ তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দিল ? আর বিএসএফ ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এদের বাধ্য করল সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে যেতে ? আর এ সমস্ত কিছুই হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়ে !! পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে তাদের রাজ্যের বাসিন্দাদের পরিচয় নিয়ে কিছু জানতে না চেয়েই কি করে অবৈধ নাগরিকের তকমা সেঁটে দেওয়া হল তাদের উপর ?
শুধুমাত্র মাতৃভাষা বাংলা হওয়ার কারণেই কি এই বৈষম্য , বিদ্বেষ ? বিশেষ বাঙালি মুসলিমদের বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ পরিয়ায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেযারম্যান সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান. বাংলা ভাষায় কথা বললেই কি বাংলাদেশী হয়ে যায় ভারতের বাঙালি ? নিজের মাতৃভাষায় কথা বলা , দেশের যে কোন রাজ্যে গিয়ে বসবাস ও কর্মসংস্থানের অধিকার তো আমাদের বাবাসাহেব আম্বেদকার রচিত ভারতের সংবিধান দিয়েছে । সে অধিকার কেউ কাড়তে পারে না ।তিনি বাংবার নাগরিক নাগরিক সমাজের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই বাংলা বিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে সকলে গর্জে উঠুন ।তা নাহলে আগামী দিন বাংলার পরিয়ায়ী শ্রমিকদের আরও বিপদ বাড়বে।
