জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যায় দ্বিতীয় ভারত টিকাদানে অসাম্যের ছবি

Pictures of inequality in child vaccination in India

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক

ভারতের অন্যতম শীর্ষ নীতি নির্ধারক সংস্থা নীতি আয়োগ জানিয়েছে আর্থিক উন্নতিতে ভারত জাপান কে টপকে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে পৌঁছেছে। যদিও এই উন্নতি দেশের সর্বস্তরে ছড়িয়েছে না কি কিছু বিশেষ স্তরে পুঁজির উন্নতির ফল তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বহু মত রয়েছে। সেই বিষয়টি বাদ দিয়েও বলা যায় স্বাধীনতার ৭৫ বছরে ভারত আর্থিক মাপকাঠিতে বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ল্যানসেট ম্যগাজিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তার যে কোনো ভারতবাসীর পক্ষে অত্যন্ত লজ্জার। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৯৮০-২০২৩ এই সময়কালের মধ্যে মিসেলস, পোলিও, যক্ষ্মা সহ ছয়টি রোগ প্রতিষেধক দেওয়ার হার বিশ্বে দ্বিগুন হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্বে ‘জিরো ডোজ’ শিশুর সংখ্যাও ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জিরো ডোজ শিশু বলতে তাদের বোঝায় যারা জন্মের পর ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও পেরটুসিস এর প্রতিষেধক বা ডিপিটি টিকা পায় নি। যে কোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি মাপার এবং টিকাদানে অসাম্য রয়েছে কিনা তা মাপার ক্ষেত্রে জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা একটি অতি প্রয়োজনীয় সূচক ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার, পাঁচ দশক ধরে বিশ্বে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়লেও জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা বিচারে বিশ্বে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভারতে উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান এবং গুজরাটে জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম এবং অরুনাচল প্রদেশেও জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যে গবেষণামূলক সমীক্ষার ভিত্তিতে ল্যানসেটে প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, দরিদ্র, অশিক্ষিত পরিবার তপসিলি উপজাতি ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা বেশি।
ল্যানসেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে সর্বমোট এক কোটি ৬০ লক্ষ জিরো ডোজ শিশুর মধ্যে আটটি দেশে এই সংখ্যার ৫০ শতাংশ শিশু বাস করে। যার মধ্যে ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই দেশগুলির মধ্যে প্রায় সবগুলিই সংঘাত দীর্ণ অথবা যুদ্ধ হীন দেশ। যেখানে প্রতিষেধক বা টিকার সংকট রয়েছে। কিন্তু, ভারত এর কোনোটিই নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে জিরো ডোজ শিশুর সংখ্যা অর্ধেক করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছোতে হলে ভারতকে নিবিড় এবং দীর্ঘস্থায়ী টিকাদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *