শিখ বৃদ্ধের শেষযাত্রায় সুমজান হাবিবুল রোজেরা সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বীরভূমের সোঁতসালে

Muslim youths take charge of Sikh old man’s funeral

তারিক আনোয়ার , বীরভূম

একজন শিখ বৃদ্ধের শেষ যাত্রায় পা মিলিয়েছেন স্থানীয় মুসলিম যুবকরা। তাঁরাই কাঁধে করে নিয়ে চলেছেন তাঁদের প্রতিবেশী মনোজিৎ সিংয়ের মরদেহ। আমাদের দেশের খারাপ সময়ের মাঝে এই মন ভালো করা ছবি ধরা পড়লো বীরভূমের সোঁতসালে।

৪১ বছর আগে ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর নিহতের ঘটনার পর দেশজুড়ে যে শিখ নিধনযোগ্য শুরু হয়েছিল। সেই সময় পাঞ্জাবের জন্মভিটে ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে বীরভূমের মোহাম্মদ বাজারে পালিয়ে এসেছিলেন মনোজিৎ সিং ও তার পরিবার। ধীরে ধীরে বীরভূমের এই মাটি হয়ে উঠেছিল তাদের সবকিছু। পাশের মানুষজন তাদের আপন করে নিয়েছিলেন। এই আপন কে শুধুমাত্র কথার কথা ছিল না, প্রাণের কথা ছিল ,তা ধরা পড়ল প্রবীণ মনোজিতের শেষকৃত্যে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই প্রবীণ মানুষের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন সোঁতশাল শান্তি কমিটি ও স্থানীয় সূর্যোদয় ক্লাবের সদস্যরা। নিজেদের কাঁধেই শেষকৃত্যের সমস্ত দায়িত্ব তুলে নিলেন।
বাঁশের খাট তৈরি থেকে শুরু করে ,গাড়ি ভাড়া সহ সমস্ত কিছু যথাযত শ্রদ্ধার সঙ্গে যাতে পালন করা যায়, তার সব কিছুর আয়োজন করলেন ক্লাবের মুসলিম যুবকরা। মনোজিতের ছেলেদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাড়ি থেকে মরদেহত তোলা হলো গাড়িতে।

তারাপীঠ মহাশ্মশানে সমস্ত রীতি মেনে দাহ করা হলো মরদেহ ।আর এই সমস্ত নিয়মকানুন পালন করলেন স্থানীয় মুসলিম প্রতিবেশীরা। শুধু তাই নয় আগামী চার দিন নিয়ম রীতি মেনে খাওয়া দাওয়া আর যা কিছু আছে তার সবকিছুর দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন মহিরুল শেখ, হাবিবুল শেখরা।

পাঞ্জাবের মাটি থেকে যে স্বজনদের ছিড়ে ভীন গাঁয়ে বসত বেঁধেছিলেন মনোজিৎ সিং। আজ মুসলিম প্রতিবেশীরা যে এভাবে পাশে দাঁড়াবে ভাবতেও পারেননি মনোজিতের পুত্র অভিজিৎ সিং। আসলে এই বীরভূমের মাটিতেই তো বড়ু চন্ডীদাসের জন্ম। তিনি লিখেছিলেন ‘ সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। এ কথাই প্রমাণ করলেন মহিরুল হাবিবুলরা।