Bengal Migrant Worker case
মনিরুল হোসেন
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশী তকমা দিয়ে সীমানা পার করার মামলায় বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র সরকার। যাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল বিএসএফ তারা সকলেই ভারতের নাগরিক। পশ্চিমবঙ্গের পাইকরের স্থায়ী বাসিন্দা। তা কলাকাতা হাইকোর্টে প্রমাণিত হল এবং এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের জেল থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকা বাংলার পরযায়ী শ্রমিক পরিবারের ছয় সদস্যকে বাংলাদেশূ তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করেছিল বিএসএফ। এই ৬ জন বাংলাদেশের জেলে বিদেশী নাগরিক হিসাবে বন্দী রয়েছে। এদের মধ্যে অন্তঃসত্বা সোনালি বিবি ও এক শিশু ও কিশোরও জেলে রয়েছে। এরা সকলেই বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে তাদের জোর করে দিল্লীর রোহিনী থানার পুলিশ আচক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার পর বাংলাদেশী তকমা দিয়ে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিযে দিয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক প্র্ষদের চেয়ারম্যান রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল লাগাতার এই পরিবারের পাশে থেকে আইনী লড়াইয়ে সব রকমের সহযোগিতা চালিয়ে গেছে। অবেশেষ জয় হল। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র সরকারকে এই ছ ডনকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনার জন্য নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। এই নির্দেশ কার্যকরের ওপর ৬ সপ্তাহের জন্য স্বল্প সময়ের স্থগিতাদেশ চায় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবি। সেই আবেদনও খারিজ করছেন বিচারপতি । কেন্দ্র সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে এই মামলায় নেপথ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন ,
“সত্যমেব জয়তে।
সত্যেরই জয় হয়।
আজ কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপির ভুয়ো প্রচারকে জনসমক্ষে এনে দিলেন। বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী খাতুন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজনকে (শিশুসহ) “বাংলাদেশি নাগরিক” বলে চালানোর যে চেষ্টা তারা করেছিল, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এফআরআরও দিল্লির আটক/নির্বাসন আদেশ বেআইনি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে এই পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আমি কোনোদিন ভুলব না, যখন আমি এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম — তখন কিভাবে বিজেপির দালালরা আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নীচু, ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছিল। এটি শুধু আমার জয় নয়; এটি বাংলার জয় — বিজেপির বাঙালি-বিরোধী, গরিব-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এক তীব্র জবাব।
Mamata Banerjee-এর নেতৃত্বে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, যতদিন না এই বিষাক্ত, জনগণ-বিরোধী শক্তিগুলিকে গণতান্ত্রিক পথে পরাজিত করা যায়।”
