Bengali Migrant Worker Torcher in Odisha
নিজস্ব প্রতিবেদন :
বাংলা ভাষায়া কথা বলার জন্য প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা হল ২২ বছরের তরতাজা যুবক জুয়েল রানাকে। জুয়েলের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সুতিতে। বুধবার রাতে মর্মান্তিক, অমানবিক, লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে উড়িষ্যার সম্বলপুরে। মাত্র কয়েকমাস আগে ঠিকাদারের মাধ্যমে উড়িষ্যায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন মু্র্শিদাবাদের এই যুবক। বুধবার রাতে একটি চায়ের দোকানে নিজেদের মধ্যে জুয়েল তাঁর সঙ্গী তাঁর গ্রামেরই পলাশ শেখ ও মালদহের বৈষ্ণবের বাসিন্দা আকিউর রহমানের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন সেই সময় কয়েকজন ওড়িয়া যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে আধার কার্ড ও বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চায়। কিন্তু সেই মুহুর্তে তাঁদের সঙ্গে আধার কার্ড ছিলনা। তারা জানায় তাদের ব্যাগে আছে। কিন্তু তাদের কথায় কান না দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশী তকমা দিয়ে শুরু হয় গণপ্রহার। কেন রকমে জুয়েলের দুই সঙ্গী পালিয়ে যেতে পারলেও জুয়েল পালাতে পারেননি। জুয়েলের উপর চলে নির্মম প্রহার। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে সুতির বাড়িতে ফিরেছে জুয়েলের নিথর দেহ। প্রাণ হাতে করে ফিরেছে গুরুতর আহত জুয়েলের দুই সঙ্গী। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম আক্রমণ নিয়ে কলকাতায় পথে নামলেও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক বিজেপি শাসিত উড়িষ্যায় নির্মম হত্যার শিকার হলে সেই অর্থে কোন প্রতিবাদ বা কড়া মন্তব্য পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। যা সত্য়িই দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন “এমন হামলার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন দরকার। শ্রমিকরা গরিব বলে সে ভাবে কোন প্রতিবাদ নেই। বাঙালি বলে তাঁদের ভিন রাজ্যে খুন করা হবে কেন।”
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমেে লিখেছেন – “প্রতিটি বিজেপি – শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর যে নির্মম অত্যাচার ও নিগ্রহ নেমে এসেছে আমরা তাকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা নিগৃহীত, সন্ত্রস্ত ও অত্যাচারিত সেইসব পরিযায়ী বাংলাভাষী পরিবারের পাশে আছি। সেই সব পরিবারকে আমরা সমস্ত রকম সমর্থন দেব। মানুষের জীবনের বিনিময়ে কোনও মূল্য হয় না, কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটছে সেইসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার রইল।”
নবীন পট্টনায়েক উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন উড়িষ্যায় বাংলার শ্রমিকদের উপর আত্রূমণের ঘটনা শোনা যায়নি। উড়িষ্যায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাঙালি শ্রমিকদের আক্রমণ বেড়েই চলেছে। এখনো পর্যন্ত উড়িষ্যা সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই এই আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। সত্যিই গরিব অসহায় মানুষ গুলির জীবনের কি কোন মূল্য নেই। তাঁদের নিথর দেখে আমাদের বুদ্ধিজীবি সমাজ কি নীরবই থেকে যাবে। এসব প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই উঠবে।
