Assembly Election 2026
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক
ভোটের বাদ্যি বাজিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গন দেবতার মন জয় করতে সব রাজনৈতিক দল ই প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি খুলে ফেলেছে। ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষ কি কি পাবেন তা প্রচারের জন্য যেমন রোড শো, জনসভা, সমাজ মাধ্যমে video অথবা audio clip রয়েছে, তেমন ই আর এক হাতিয়ার হলো ইস্তাহার। তৃণমূল তার দলীয় ইস্তাহার প্রকাশ করেছে, বাকি প্রতিযোগীরা এখনও তুলির শেষ টান দিচ্ছেন। এই অস্ত্র সম্ভারের বাইরে রয়েছে আর এক হাতিয়ার। তার নাম হলো পরিসংখ্যান। সম্প্রতি রাজ্যগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে নীতি আয়োগ। সেই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের ফল ভালো হয়নি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দেশের ১৮ টি বড় রাজ্যের মধ্যে শেষের দিক থেকে তৃতীয়। তবে, গতবারের তুলনায় এবার পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিসেবা ক্ষেত্রে মুলধন খাতে খরচ দ্বিগুন হয়েছে। রাজরোষে ঘাটতিও সহনীয় গন্ডির মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষায় রাজ্যের নম্বর কমেছে প্রধানত বিপুল অঙ্কের ঋণ ও সেই ঋণের উপর সুদের কারণে। পশ্চিমবঙ্গের ঋণের পরিমাণ রাজ্যের জিডিপির ৩৮ শতাংশ। ফলে ভারতের অত্যন্ত ঋণগ্ৰস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে যে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে নীতি আয়োগের পরীক্ষাপত্র নিয়ে। ‘ আর্থিক স্বাস্থ্য’ নির্নয় করে কী উদ্দেশ্য পূরণ করতে চায় নীতি আয়োগ ? অর্থনীতির পাঠ না নিয়েও আমরা সবাই জানি আর্থিক শৃঙ্খলা উদ্দেশ্যে পৌঁছনোর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। এক্ষেত্রে শুধু বিধি মেনে চললে লক্ষ্য সাধন ব্যাহত হয়। আয়- ব্যয় সমতা রাখা অবশ্যই উচিত কাজ তা, বলে শুধু ব্যয় বা লনে লাগাম পরিয়ে রাখাই কোনো সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হতে পারে না। জনতার ভোট নিয়ে গনতন্ত্রে যে সরকার ক্ষমতায় বসে তাকে জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন বুঝে তার মধ্যে জরুরী চাহিদা গুলি দ্রুত মেটাতেই হবে। যদি রাজকোষে সেই টাকা না থাকে তাহলে ঋণ করতে হবে। যদি তা না করা হয় তাহলে সেই সরকার দায়িত্বহীন বলেই পরিচিত হবে। নীতি আয়োগের মাপকাঠিতে নিচের দিকের রাজ্যগুলির সঙ্গে রয়েছে কেরলও। অথচ কেরল দেশের মধ্যে মানব উন্নয়ন সূচকে, নারী অধিকার ও শ্রমিক অধিকারের মানদন্ডে মডেল রাজ্য হিসেবে গণ্য হয়। সেই কেরলেও ঋণের হার পশ্চিমবঙ্গের কাছাকাছি। তাহলে কি বলতে হবে এই কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির কোনো প্রয়োজন নেই। এতে আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে মানব উন্নয়নের সূচকে কেরল দ্বিতীয় স্থানে আর গুজরাত ২৫ তম স্থানে। অথচ নীতি আয়োগের রিপোর্টে গুজরাত শীর্ষের দিকে আর কেরল নিচের দিকে। সম্প্রতি গুজরাত বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক জিগ্নেস মেবানি তথ্য সহকারে দেখিয়েছেন সে রাজ্যের প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৪০ জন অপুষ্টির শিকার। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের একটি বড় অংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের। কেন্দ্রীয় সরকারের National Family Health Survey এর রিপোর্ট থেকেই এই তথ্য পেশ করেছেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাহলে কি ধরে নিতে হবে আর্থিক স্বাস্থ্যে উন্নতির সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নের কোনও সম্পর্ক নেই?
