Assembly Election LeftFornt Candidate-2026
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক
এই আকালের বাজারেও ওদের খাওয়া-পরার চিন্তা নেই। বিভিন্ন শ্রী মাখানো প্রকল্প নিতেও পিছিয়ে নেই। তবে সেই অনুদানের ওপরে এদের জীবন নির্ভরশীল নয়। এরা হলেন শহুরে মধ্যবিত্তের একটি অংশ। বেশ কিছুকাল ধরেই এদের গর্বিত আফশোস হলো, ” জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসে না” । সম্প্রতি এদের সদা অপরিতৃপ্ত হৃদয়ে হিঁদুয়ানির আসন বসেছে। আমাদের আশেপাশে এরা যেখানে যেখানে আছেন সেখানেই বাঙালি হিন্দুর উদারমনষ্কতা এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার বহমান নদীর পাড় ভাঙছে। এই নদীই বহুদিক থেকে হতশ্রী হয়ে পড়া বাঙলার মননশীলতার শ্রী কিছুটা হলেও ভাসিয়ে রেখেছে। কিন্তু শহুরে মধ্যবিত্তর এই অংশের হাত ধরে উদারতা, সহনশীলতার ঘরে সিঁধকাটা শুরু হয়েছে। এরা আবার সামাজিক মাধ্যমে অনেকটা সময় ব্যয় করেন। দেড় দশক আগে রাজ্যে ক্ষমতা হারানো বামেদের মরা গাঙে সম্প্রতি ঢেউয়ের আশা জাগানোর এক ঝাঁক তরুণ তরুণী এখন এদের চক্ষুশূল। যার পরিণতি বোধ বুদ্ধিহীন পরিহাস ও আক্রমণের মন্থন। সেই মন্থনে উঠে এসেছে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা ও বামফ্রন্ট প্রার্থী কলতান দাসগুপ্তর ভোট দ্বৈরথ। যে কলতান অভয়ার প্রতি অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম কঠিন এবং উজ্জ্বল মুখ। যে কলতান প্রতিবাদের রাস্তায় অটল দাঁড়িয়ে থাকার অপরাধে জেল খেটেছেন। যে কলতান নিজের আত্মজার নাম রেখেছেন অভয়া স্মরণে দ্রোহজা। সেই কলতান এখন এদের পরিসরে ব্রাত্য। তবে, শুধু কলতান নয় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট প্রার্থী আফরিন বেগম, যে আফরিনের সুভদ্র, সপ্রতিভ উপস্থিতিও এদের চোখে বেমানান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, যার চত্বরে জন্মলগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত রাজনীতির ঝাঁঝ সজীব। সেই সজীবতার বীজ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসরে নানান বাম মতাদর্শের আঁকাবাঁকা চলনে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, শিক্ষক নেতা, গবেষক ও প্রাক্তনীদের অনেকেই এবার ভোটে বামফ্রন্ট প্রার্থী তালিকার চালচিত্রকে আকর্ষক করেছেন। নানা মহলে চর্চা চলছে তারুন্য থেকে পূর্ণ বয়স্কদের এই বাহিনী লড়লেও বোধহয় রথের চাকা শেষ পর্যন্ত মাটিতেই গেঁথে থাকবে। তবু এদের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতির কদর্য চেহারার মধ্যে অনেক নৈরাশ্যবাদীকেও চোখ খুলে তাকাতে বলছে। যদি তাঁরা তাকান তাহলে আমার মনে হয় হতাশ হবেন না। প্রতি ভোটের আগে ‘ইলেকশন ওয়াচ’ সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী তালিকায় দাগীদের উপস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ‘ইলেকশন ওয়াচের’ তালিকা ঘেঁটে সন্দেহবাদীরা দেখে নিতে পারবেন একজন বাম প্রার্থীর নামও সেখানে থাকবে না। ভারতবর্ষের প্রথম বাম সরকারকে কেরালায় ৩৫৬ ধারা জারি করে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ছিল দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিসরে প্রথম একনায়কতন্ত্রের আভাস। ফলে বামেদের মাটি থেকে উঠে দাঁড়ানোর অভ্যাস অনেক পুরনো। চলার পথে ভুল ভ্রান্তি হলেও অভ্যাস তো যায় না। তাই সমাজ মাধ্যমে নবীনা আফরিনের আশাবাদ জেগে থাকে শঙ্খ ঘোষের উচ্চারণে, ” আবার সুখের মাঠ জলভরা/ আবার দুঃখের ধান ভরে যায়/এমন বৃষ্টির দিন মনে পড়ে/ আমার জন্মের কোনো শেষ নেই”।
