দৃশ্যত বিরক্ত বিচারপতি

ভর্ৎসিত রাজ্য প্রশাসন, তবু আক্কেল হচ্ছে কই?

আদালতে বারবার ধাক্কা খাওয়া, নাস্তানাবুদ হওয়া যেন মমতা সরকারের এক স্বাভাবিক দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে! ক্রমাগত শিক্ষা পেয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

এর আগে জাতীয় সঙ্গীতের ‘মর্যাদাহানি’ সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি (BJP) বিধায়কদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পরিবেশ-পরিস্থিতি-রীতিনীতি নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছিল আদালত। বিধানসভা চত্বরের বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) যে আদপে বিরক্ত, তাও ঠারেঠোরে বুঝিয়েছিলেন বিচারপতি। বৃহস্পতিবার মামলাটি আদালতে উঠলে, সেই বিরক্তি আরও স্পষ্ট করে প্রকাশ করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত (Justice Jay Sengupta)। ঘটনা হল, অভিযোগের সারবত্তা হিসেবে যে ভিডিওটি আদালতে পেশ করা হয়েছে, তাতে বিজেপির বিক্ষোভের ছবিই নেই!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মন্ত্রীরা সহ তৃণমূল বিধায়করা যখন জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন, তখন আশপাশ থেকে কিছু ধ্বনি শোনা যাচ্ছে মাত্র! যেখানে অভিযুক্তদের ছবিই অনুপস্থিত, সেখানে আদালত কী করবে? ওই ভিডিও অভিযোগের অনুকূলে গ্রাহ্য হবে কীভাবে? সঙ্গত জিজ্ঞাসা বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের। এবং তিনি অন্যান্য অসমাপ্ত মামলার গভীরতা স্মরণ করিয়ে দৃশ্যত বিরক্তি প্রকাশ করেন। লালবাজারের তদন্তে আপাতত স্থগিতাদেশ দেন বিচারপতি। এই মামলায় রবিবার পরের শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।

প্রশ্ন হল, আদালতে এতবার হেনস্থা হওয়ার পরও হুঁশ ফিরছে না কেন মমতা-প্রশাসনের? বিশেষত যখন বিধানসভার ঘটনাতে লালবাজার পর্যন্ত জল গড়িয়েছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর প্রণোদনায়, তখন বিচার বিভাগীয় চপেটাঘাতের দায় কি রাজ্য সরকার এড়াতে পারে?