‘বিধিভঙ্গ’, সাসপেন্ডেড ১৫!

জবাব চাইলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘স্বৈরাচার’?

সাসপেনশনের হিড়িক বোধহয় একেই বলে! বুধবার সাংসদদের নিরাপত্তা নতুন ভবনের নিম্নকক্ষে ঠিক কেমন ছিল, তা দেশবাসীর কারও জানতে বাকি নেই। সেই নিয়ে পরের দিন, বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে ঝড় উঠবে – এটা অকল্পনীয় কিছু নয়। কিন্তু তা মোকাবিলা করা হল যে উপায়ে, বস্তুত সেটাই দুর্ভাবনার।

লোকসভায় সাসপেন্ডেড কংগ্রেস ও অপরাপর দলের ১৪ সাংসদ। বিধিভঙ্গের অভিযোগে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi) একের পর এক মোশন আনলেন। এবং ধ্বনি ভোটে সেইসব প্রস্তাব পাস করিয়ে সাসপেনশনে সিলমোহর দিয়ে দিলেন স্পিকার।

শুরুটা অবশ্য হয়ে গিয়েছিল আগেই। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ ও স্লোগানের পরিণামে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েনকে (Derek O’Brien) সাসপেন্ড করেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)।

অর্থাৎ সংসদের উভয় কক্ষে একই রকম পরিস্থিতির পরিণতিতে একই দিনে সাসপেন্ড করা হল ১৫ জন সাংসদকে। বিজেপি সাংসদরা টেবিল চাপড়ে উল্লাস প্রকাশ করলেন। বিপরীতে আওয়াজ উঠল, ‘তানাশাহি নেহি চলেগি।’

সাসপেনশন প্রসঙ্গে কংগ্রেস-তৃণমূলের কটাক্ষ, ‘নিরাপত্তা নিয়ে জবাব চাইলেই বিধিভঙ্গ!’ অভিযোগ, ‘গণতন্ত্রের পীঠস্থানে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরতন্ত্র চলছে।’ সত্যিই তো, সংসদে এত বড় সংকটের পর ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় অতিক্রান্ত! নতুন সংসদ ভবন নিয়ে বুক বাজানো প্রধানমন্ত্রী নীরব কেন? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখেই বা কুলুপ আঁটা কেন? সংসদে হাজির হয়ে জবাব দেবেন না তাঁরা? সেই দাবি তুললেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সাসপেনশন!

সশরীর উপস্থিতিতে জবাবের কথা ছেড়ে দিন। সামাজিক মাধ্যমে অতি সক্রিয় প্রধানমন্ত্রীর এক্স (X, পূর্বনাম Twitter) হ্যান্ডলটা আগ্রহীরা একবার ঘুরে আসুন। গাছের পাতা সামান্য হলুদ হলেও যিনি তার গেরুয়া ভবিষ্যৎ নিয়ে সকাল-সাঁঝে পোস্ট করে বসেন, সেই নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বুধবার থেকে সংসদের ঘটনাক্রম প্রসঙ্গে রা কাড়তেও বেমালুম ভুলে গিয়েছেন! ও হ্যাঁ, সংসদের সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমে অবশ্য হলুদ পাতার গেরুয়া ভবিষ্যতের কোনও সম্ভাবনা নেই।

Image Courtesy: SANSAD TV