‘চোপ, গণতন্ত্র চলছে…!’

সাসপেনশনে সেঞ্চুরি হাঁকাবে সংসদ?

সাসপেন্ড করা ছাড়া আর কোনও পথই খুঁজে পেলেন না রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও লোকসভার অধ্যক্ষ। রাজ্যসভায় ৪৫ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করলেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankar)। তার আগে সোমবারই লোকসভায় একসঙ্গে ৩৩ জনকে করা হয়েছে সাসপেন্ড। সংসদের নিম্নকক্ষে সাসপেন্ডেড সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরীও।

Image Courtesy: SANSAD TV

লোকসভায় হাঙ্গামার দিন থেকে নিরাপত্তার প্রশ্নে উত্তপ্ত সংসদের উভয় কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে হবে, এই দাবিতে বিরোধী সাংসদরা বারবার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, স্লোগান দিয়েছেন। তা বরদাস্ত করেনি কোনও কক্ষই। রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েনকে (Derek O’Brien) সাসপেন্ডের মধ্য দিয়ে শুরুটা করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় (Jagdeep dhankhar)। ওইদিন একই অভিযোগে লোকসভায় কংগ্রেস সহ বিরোধী দলের মোট ১৪ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়।

সোমবার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতেই এক ছবির পুনরাবৃত্তি। বিরোধীদের তুমুল শোরগোল ও স্লোগানে সংসদের দুই কক্ষেই দফায় দফায় মুলতুবি হয় অধিবেশন। বিকেলে লোকসভার অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে, যথারীতি ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। ফের স্লোগানও তোলেন তাঁরা। দাবি স্পষ্ট, আপাতত অধিবেশনে অন্য প্রসঙ্গে কোনও চর্চা নয়। চাই প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি ও জবাব। এদিন স্পিকার ওম বিড়লা আগেই বিরোধী সাংসদদের এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ ও স্লোগান কক্ষের পক্ষে মর্যাদাহানিকর। কিন্তু সেই কক্ষে যখন সাংসদদের নিরাপত্তাই সুনিশ্চিত নয়, তখন স্পিকারের কথায় কর্ণপাত করার কোনও কারণ খুঁজে পাননি বিরোধী দলের সাংসদরা। পরিণামে লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী সহ মোট ৩৩ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করে দেন স্পিকার। তারপর সময় কিছুটা গড়াতে না গড়াতেই, রাজ্যসভার ৪৫ বিরোধী সাংসদকে সাসপেনশনে পাঠালেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়।

ফলে চলতি অধিবেশনে সোমবারের অবশিষ্ট সময় ও বাকি ৪ দিন সাসপেন্ডেড হয়ে থাকবেন রাজ্যসভা ও লোকসভা মিলিয়ে ওই ৭৮ জন বিরোধী সাংসদ। শুধু তাই নয়, আগে সাসপেন্ডেড হওয়া সাংসদদের সংখ্যা এর সঙ্গে যোগ করলে, ৯৩ জন সাংসদ ছাড়াই চলবে অবশিষ্ট শীতকালীন অধিবেশন!

প্রশ্ন হল, সংসদের নিম্নকক্ষে নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার ঘটনাকে কি লঘু করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? নাকি বিরোধী সাংসদদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন অনুভব করেন না নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), অমিত শাহ (Amit Shah)?

দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণের অধিবেশন এভাবে পণ্ড করার দায় কি কেবল বিরোধীদের ঘাড়েই বর্তায় সেক্ষেত্রে? মনে রাখা জরুরি, সাধারণ নির্বাচনের আগে এই শেষ অধিবেশন নানা কারণেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সাসপেনশনের মাধ্যমে যথেচ্ছ হারে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করার প্রক্রিয়া সেই গুরুত্বে জল ঢেলে দিল বলা যায়।

সংসদের মকরদ্বারে সোমবার সকাল থেকে ডেরেক ও’ ব্রায়েন সহ আগের সাসপেন্ডেড সাংসদরা ধরনা চালাচ্ছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভায় এদিনের সাসপেনশনের পর এক ধাক্কায় সেই ধরনায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে হতে চলেছে ৯৩! অর্থাৎ, বাইরে ‘সংগত’ বিক্ষোভ, অন্দরে ‘উদ্ধত’ অধিবেশন। ‘চোপ, গণতন্ত্র চলছে…!’