সন্দেশখালিতে আক্রান্ত ইডি আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ?

সন্দেশখালিতে রেশন দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল নেতা সাজাহান শেখের বাড়িতে তল্লাশি করতে স্থানীয় জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিন ইডি আধিকারিক। সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একজন সহকারী অধিকর্তা রাজকুমার রাম। বর্তমানে তিনি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁকে হাসপাতালে দেখে এসেছেন।

ইডির সহর্অধিকর্তা রাজকুমার রামের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন অর্থ সংগ্রহের জন্য সিবিআিই অতীতে মামলা করেছিল। সিবিআই তার বিরুদ্বে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত আইপিসি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিধানের অধীনে মামলা করেছে। ২০২২ সালের ৮ মার্চ রাজ কুমার রামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়ের করে সিবিআই। সেই সময় রাজকুমার রাম বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন। সন্দেশখালিতে আক্রান্ত ইডির সহ অধিকর্তা রাজকুমার রামই যে বেঙ্গালুরর রাজকুমার রাম তেমনই মিল পাওয়া যাচ্ছে। যদি তাই হয় তাহলে তদন্তকারী আধিকারিকরের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল। সিবিআয়ের দায়ের করা এফ আই আরের কপির প্রতিলিপি আমাদের হাতে এসেছে।

সিবিআইয়ের দায়ের করা রাজকুমারের বিরুদ্ধে যে এফ আই আর করা হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত গত চার বছরে ৩৭ লাখ টাকার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে।বিহারের সীতামারির বাসিন্দা রাজকুমার রাম ও তাঁর স্ত্রী গৃহবধু চন্দ্রোমা কুমারি ও তাদের তিন সন্তান রয়েছে। রাজকুমার যখন বেঙ্গালুরুতে কর্মরত ছিলেন তখন তাঁর নামে ১ এপ্রিল,২০১৬তে ১.১৮ লক্ষ টাকার বেশি সম্পত্তি ছিল। এবং সেই সঙ্গে তার গৃহবধু স্ত্রীর সম্পত্তি ছিল যা 31 শে মার্চ, 2020 পর্যন্ত বেড়ে ৫৭ লক্ষ টাকা হয়েছে।   সিবিআইয়ের অভিয়োগ এই সময়কালে, রামের মোট আয় ছিল ১.৩৪ কোটি টাকার বেশি। আর ব্যয় ছিল প্রায় ১.১৬ কোটি টাকা। সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছিল এই চার বছরে ইডি আধিকারিক রাজকুমার রামের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন আর্থিক সম্পদের পরিমান ৩৭ লাখ বেশি। এই তদন্ত চলার সময় রাজকুমার রামকে আসামে বদলি করা। সেখান থেকে বর্তমানে এই নামে কলকাতায় ইডির সহকারি অধিকর্তা পদে কর্মরত আছেন।