দুবাইয়ে ১৪০টির বেশি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুললেন কেরলের ১৮ বছরের তরুণী সুচেতা সতীশ
গানে ভুবন ভরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করেছেন ভারতীয় নাগরিক কেরলের বাসিন্দা ১৮ বছরের সুচেতা সতীশ। এভাবে সুচেতা গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন রুখতে সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি কনসার্টে ১৪০টির বেশি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন সুচেতা। ওই কনসার্ট আয়োজিত হয় দুবাইয়ে।খুশির খবর ইনস্ট্রাগ্রামে শেয়ার করেছেন সুচেতা। তিনি বলেছেন, ঈশ্বরের কৃপাতেই ১৪০টির বেশি ভাষায় গান গেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারলেন।
এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে সুচেতা সতীশের নাম। গিনেসের তরফে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভাষায় এই প্রথম কোনও কনসার্টে সঙ্গীত পরিবেশিত হল। পাশাপাশি, এও জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন রুখতে যে সামিট আয়োজিত হয়, তাতে বিশ্বের ১৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানেই সুচেতা ১৪০টির বেশি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আয়োজিত এই সামিট ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’ অথবা ‘কপ ২৮’ হিসেবে পরিচিত।
দুবাইস্থিত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সুচেতার প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করে এবং অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছেন। ওই টুইটে তিনি বলেন, সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের ক্ষেত্রে সুচেতার অভূতপূর্ব সাফল্য গোটা ভারতকে গর্বিত করেছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার পরে সুচেতার ইন্টারভিউ সম্প্রচারিত হয়েছে ডিডি নিউজে। ওই ইন্টারভিউতে সুচেতা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি দেশিবিদেশি ১৫০টি ভাষায় গান গাইতে পারেন। বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারায় তিনি যারপরনাই আনন্দিত।
সুচেতা জানিয়েছেন, সঙ্গীত সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ধ্যানধারণা কথা। যেমন জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন সঙ্গীতকে কোনও সীমানায় আটকে রাখা যায় না। সঙ্গীত দেশকালের উর্ধ্বে। এও বলেছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলির মধ্যে জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন অন্যতম সমস্যা। এই বিপদ রুখতে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করতে দুবাইয়ে্র ওই কনসার্টে ১৪০টির বেশি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেন।
বিশ্বের নানা দেশের, নানা ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে এর আগেও সুচেতা রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন সুচেতা। যেমন, ২০১৮ সালে দুবাইয়ের ইন্ডিয়ান কনস্যুলেট অডিটোরিয়ামে ১০২টি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এরপর ২০২১ সালে আরেকটি অনুষ্ঠানে ১২০টি ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে নজির গড়েন সুচেতা সতীশ।
শতাধিক ভাষায় গান গাইতে পারা যে পরিশ্রমসাধ্য সাধনার কাজ, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওই সাধনার পথে সুচেতা নিজেকে কীভাবে ধীরে ধীরে পরিণত করেছেন, ওঁর পরিবারের তরফে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে তা। এপ্রসঙ্গে সুচেতার বাবা জানিয়েছেন, প্রথমে পছন্দসই গান বাছেন সুচেতা। এরপর গানের কথার অর্থ গুগলে অনুবাদ করে মর্ম বোঝার চেষ্টা করেন। আয়ত্ত করেন উচ্চারণরীতি। এরপর শ্রোতাদের কাছে তা উপস্থাপনা করেন।
মেয়ে ফে্র এই সাধনারই স্বীকৃতি পেল বলে মনে করেন সুচেতার বাবা।
