রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শাখা সংস্থা মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের বিতর্কিত দাবি, ‘রাম জন সমীক্ষা’য় দাবি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক ৭৪ শতাংশ মুসলমানই রামমন্দিরের পক্ষে।
অযোধ্যার রামমন্দির নির্মাণ ইস্যুতে বিতর্ক আছে। কেন্দ্রীয় সরকার রামমন্দির নিয়ে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ঢাক পিটিয়ে প্রচারে নেমে পড়েছে। আসরে নেমে পড়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শাখা সংস্থা মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক মুসলমান সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিশ্বাস করেন ভগবান রাম সবার। ওঁরা রামমন্দিরের পক্ষে মত দিয়েছেন একটি সমীক্ষায়।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের তরফে এও দাবি করা হয়েছে, গুজরাটভিত্তিক দাতব্য ট্রাস্ট আয়ুর্বেদ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে সমীক্ষা চালানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই রাজ্যগুলোর ভিতর আছে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি-এনসিআর, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীশগড়, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অসম। ১০ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার নাম ‘রাম জন সমীক্ষা’।
ওই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, মোটে ২৬ শতাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের ভারতীয় নাগরিকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর আস্থা নেই। ৭৪ শতাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষই রামমন্দিরের পক্ষে। আর মুসলমান সম্প্রদায়ের ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মোদি সরকারই এখন দরকার।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ বিবৃতি দিয়ে এই দাবি করেছে। এও বলেছে, ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা থেকে আরম্ভ করে উলেমা, মৌলানা সম্প্রদায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যে যেভাবে ইসলামকে ব্যবহার করছে, তা পুরোপুরিভাবে বয়কট করতে হবে। এমনই মনে করছেন ভারতীয় নাগরিক মুসলমান সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ।
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ নামে সংস্থাটি পরিচালনা করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নেতা ইন্দ্রেশ কুমার। তিনি বলেছেন, ‘সমীক্ষায় আমরা দেখেছি মুসলমান সম্প্রদায়ের ৭৪ শতাংশ মানুষ অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের ফলে খুশি’।
ইন্দ্রেশ কুমার আরও বলেছেন, যে ২৬ শতাংশ ভারতীয় নাগরিক মোদি সরকারের প্রতি আস্থাহীন, ওঁরা পর্যন্ত বলেছেন, ‘শ্রীরামচন্দ্র এক বিশ্বাসের প্রশ্ন, তবে রামমন্দির পরিদর্শন করার কোনও পরিকল্পনা ওঁদের নেই’।
ইন্দ্রেশের দাবি, ভারতীয় নাগরিক ৭০ শতাংশ মুসলমান বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে ভারত বিশ্বশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এসত্ত্বেও কিছু মানুষ ভারতে বিদ্বে়ষ ও ঘৃণার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে।
এজন্যে ইন্দ্রেশ কাঠগড়ায় তুলেছেন মৌলানা মাদানি, আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, বদরুদ্দিন আজমল, অখিলেশ যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব থেকে কংগ্রেস এবং এনসিপি নেতাদের। তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে তথাকথিত উলেমা, মৌলানা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ইসলামকে কাজে লাগাচ্ছেন। এটা বয়কট করার আর্জি জানাচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ’।
