ভোটের বাজারে গোরুর মর্যাদা বাড়ল, গোরুকে “রাজমাতার” মর্যাদা মহারাষ্ট্র সরকারের

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য :মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাক প্রবল শব্দে বাজছে‌ । ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাই ওই রাজ্যের শুধু অর্থনীতি নয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ও কেন্দ্রস্থল। ফলে আরব সাগরে পারে ওই নগরীতে এখন চলছে নানা রাজনৈতিক কলাকৌশল। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় দফার শাসনে বিরোধীরা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। তাই হরিয়ানার ভোটে জিতে কিছুটা মুখ রক্ষা হলেও বিজেপির এখন মূল লক্ষ্য মহারাষ্ট্রের ভোট। এই ভোটে জিততে পারলে লোকসভা ভোটের খারাপ ফল অনেকটাই মুছতে পারবে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, বিরোধীরা জিতলে তাদের মনোবল বহুগুণে বাড়বে।
২০১৪ তে বিজেপির উত্থানের পর থেকে তাদের রাজনীতিতে গরু একটি বিশাল জায়গা নিয়েছে। যেখানেই আর্থিক বা সামাজিক দুর্দশা বাড়ার সূচকগুলো লোকের চোখে জ্বালা ধরাচ্ছে সেখানেই ধর্ম এবং গোমাতা কে প্রচারে এনে বিজেপি পরিত্রাণের পথ খুঁজছে। এই একই ছবি দেখা গেল মহারাষ্ট্রে। সেখানে একনাথ শিন্দের মন্ত্রীসভা খাঁটি ভারতীয় গরুকে রাজমাতা আখ্যা দিয়েছে। শুধু আখ্যা নয় গরু নিয়ে একগুচ্ছ কর্ম সূচি ও ঘোষিত হয়েছে। মহারাষ্ট্রে দেশি গরুর সংখ্যা কমেছে। তাই গরুর সংখ্যা বাড়াতে গোশালাগুলিতে তাদের যত্ন আত্তি বাড়ানোর কথা বলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। এই লক্ষ্যে মহারাষ্ট্র গো-সেবা কমিশন গোশালাগুলিকে দিন প্রতি ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। কৃষি, অর্থনীতি, ডেয়ারি উন্নয়ন বা পশুপালনের ক্ষেত্রে সরাসরি দেশি গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয়তা যে রয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু ভোট বড় বালাই। তাই কাজের কথা সরাসরি না বলে ধর্মীয় জাফরকে ভেজাতে ঘুরপথ বেছে নেওয়া হয়েছে ‌। সেই পথ হল “রাজমাতা গোমাতা” আখ্যায় কাড়া নাকাড়া বাজিয়ে রাজ্যময় তুমুল প্রচার করা। এটাও বিজেপি ও তাদের সঙ্গী শাসিত রাজ্যের অতি পরিচিত ছবি। এই ধরনের ঘুরপথের সুবিধা হল এতে সরকারি প্রচার যন্ত্রও অর্থব্যয় দলীয় রাজনীতি প্রচার করা যায়। ভোট এলেই রাজনৈতিক দলগুলির মনে পড়ে বৈতরণী পার হতে জনমত ই একমাত্র ভরসা। ফলে জনসমাজের বড় অংশের আবেগ কিসের সঙ্গে জড়িত তার খোঁজ পড়ে। ভারতীয় জনমানসের একটি বড় অংশে গরু নিয়ে আবেগ রয়েছে। অতএব তাকে নিয়ে নিত্যনতুন প্রচার কৌশল তৈরি কর। গরু কমে যাচ্ছে বলে আর্তনাদ করে বিশেষ লাভ নেই। তার চেয়ে রাজমাতা গোমাতা আখ্যা দিয়ে ভজনপুজনে টইটুম্বুর আবেগ রয়েছে। এই আবেগ সেবায় ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়বে বেশি। সুতরাং এই পথে এগোতে পারলে জনতা জনার্দনের আশীর্বাদ লাভের পথ ও প্রশস্ত হবে।