দেশে জনগণনার সঙ্গে জাতগণনা হলে কার ক্ষতি কার লাভ

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য : কোভিড অতিমারির কারণে পৃথিবীজুড়েই স্বাভাবিক জীবন যাত্রার সঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থমকে গিয়েছিল। অতিমারি বিদায় নেওয়ার পরে জীবনে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে গতি ফিরেছে। দেশে লোকসভা নির্বাচন হয়েছে অথচ কোনো এক অজ্ঞাত কারণে জনগণনার কাজ থমকে রয়েছে। দেশ উন্নত বা উন্নয়নশীল যাই হোক না কেন যে কোন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণের জন্য জনগণনার ফল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জনগণনার ফল থেকে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সম্পর্কে অতি মুল্যবান তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে নীতি নির্ধারণ হলে সঠিক লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছনোর রাস্তা পাওয়া যায়। তবে জনগণনা হলেও জাত গণনা হবে কিনা সে সম্পর্কে কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায় নি।
কেন্দ্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী থমকে থাকা জনগণনার কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হতে পারে। আর সেই কাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হবে। সরকারের একটি অংশের সুত্রে জানা গিয়েছে জনগণনার কাজ শেষ হলেই দেশ জুড়ে সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু হবে। সেই নতুন আসন পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতে ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচন হতে পারে।
বর্তমানে জনগণনার দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়নের মেয়াদ ২০২৬ সালের অগাস্ট মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই কারনেই মনে করা হচ্ছে ওই সময়ের মধ্যে জনগণনার কাজ শেষ করার লক্ষ্যে ই তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।এর মধ্যে সরকারের একটি অংশের দাবি ২০২৫ সালে দেশ জুড়ে জনগণনার কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ করা হবে। প্রতি দশ বছর অন্তর দেশে জনগণনা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে এবার দেরিতে জনগণনা হওয়ার ফলে সেই বৃত্ত আগামী দিনে বজায় থাকবে না। অর্থাৎ জনগণনার বছরসূচিই দেশে বদলে যাবে।
তবে জনগণনা হওয়ার খবরে খুশি হলেও বিরোধী দল গুলি জাত গণনার পক্ষে সরব হয়েছে। এন ডিএ শরিক দল জে ডি ইউ, এল জে পি ও টিভিপিও জাত গণনার পক্ষে। ইতি মধ্যেই বিহারে জাতগণনা করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। কিন্তু বিজেপি সরকার এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। যদিও নীতীশের দল জানিয়েছে জাত গণনার বিষয়ে তাদের মতের কথা এন ডি এর বৈঠকে জানানো হয়েছে। বিজেপির সমস্যা হল জাত গণনা হলে দেখা যাবে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যে ওবিসি তা নথিবদ্ধ হবে। আর তাহলে জনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষণের দাবি তুলবেন ওবিসি রা। এই ক্ষেত্রে প্রবল আপত্তি রয়েছে আর এস এস ও বিজেপির উচ্চবর্ণের নেতাদের। তাই এই বিষয়ে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছে বিজেপি।