নভেম্বরের নির্বাচন ইন্ডিয়া জোটের সামনে সংহতির বড় পরীক্ষা

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য : নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন হবে। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী মহারাষ্ট্রের ভোটের দিকে সবার নজর রয়েছে। ১৯ নভেম্বর রাজস্থানে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই সাতটি কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে জিতেছিল কংগ্রেস। লোক তান্ত্রিক পার্টি, ও আদিবাসী পার্টি ও বিজেপি একটি করে আসনে জিতেছিল। এই উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে শরিক লোক তান্ত্রিক পার্টি ও আদিবাসী পার্টির রফা হল না। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও বামেদের আসন সমঝোতা হয়নি। উত্তরপ্রদেশেও উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির আসন বোঝাপড়া হয়নি।‌অথচ গত লোকসভা নির্বাচনে এই দলগুলির সঙ্গে কংগ্রেসের আসন রফা হয়েছিল। এই সমঝোতায় সবদল ই লাভবান হয়েছিল। শুধুমাত্র বামেদের ঝুলিতে একটি আসন ও যায় নি।
অসমেও উপনির্বাচনে কংগ্রেস কংগ্রেস একই মনোভাব নিয়ে চলছে। ইন্ডিয়া জোটের প্রধান দলটির সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনে বিজেপি বিরোধী শিবিরের অন্য দলগুলির সঙ্গে মনোমালিন্য বেড়েই চলেছে। দিল্লিতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টির সঙ্গে সমঝোতার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন ইন্ডিয়া মঞ্চের প্রধান দলটির সংহতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় গত লোকসভা নির্বাচনে পারস্পরিক সমঝোতার ফলে ইন্ডিয়া মঞ্চ বিজেপি বিরোধিতায় যে সাফল্য পেয়েছিল তার সামনে বড় বাধা তৈরি হতে চলেছে।
শরিক বা সহযোগী দলগুলির অভিযোগ কংগ্রেস এখনও তার প্রকৃত ওজন বুঝতে অক্ষম। এই কারনেই আসন ভাগাভাগির সময় তারা অবাস্তব দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। সদ্য সমাপ্ত হরিয়ানা নির্বাচনে দেখা গিয়েছে বিজেপির সঙ্গে মুখোমুখি টক্করে এখনো কংগ্রেসের ভার মোটেই সন্তোষজনক নয়। লোকসভা নির্বাচনে সাফল্য কংগ্রেসের মাথায় ভারি হয়ে বসেছে। শরিকদের মতে সেই সাফল্যের পিছনে অন্যান্য দলগুলির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।‌ এখন প্রশ্ন হল এই বাস্তব কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা কবে বুঝবেন? দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লোকসভা নির্বাচনে ৯৯টি আসন পেয়ে মনে করছেন তারা কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফেরার রাস্তায় ঢুকে পড়েছেন। অথচ এ কথা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই যে কংগ্রেসের এই ভালো ফলের পিছনে শরিক ও সহযোগীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কংগ্রেস যদি নিজেদের ওজন না বুঝে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে দেখতে থাকে তাহলে এই সমস্যা আরও বাড়বে। ভারতীয় গনতন্ত্রে বিরোধী রাজনীতির যে শক্তিশালী পরিসর তৈরি হয়েছে তার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর শেষ পর্যন্ত যদি এই ক্ষতি হয় তাহলে তার দায় শতাব্দী প্রাচীন এই সর্বভারতীয় দলটিকেই নিতে হবে।