
সম্প্রতি ইরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রকাশ্যে এক যুবতীকে অন্তর্বাস পরে হাঁটতে দেখা যায়। এই ঘটনা শুধু ইরান নয়, গোটা দুনিয়া রীতিমত তোলপাড় হয়েছে। বলা হচ্ছে ইরান সরকার যে ভাবে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে চলেছে বিশেষ করে নারীদের ওপর জোর করে পোশাকবিধি চাপিয়ে দিচ্ছে তার তার প্রতিবাদ জানাতেই এই যুবতী অন্তর্বাস পরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।তবে ইরানের দৈনিক সংবাদপত্র তেহেরান টাইমসের রির্পোটে দাবী করা হয়েছে প্রতিবাদী ঐ যুবতী আসলে মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই সন্তানের মা ঐ যুবতীর সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এই ঘটনার পর মানসিক ভাবে সুস্থ নন তিনি। ইরান সরকারের দাবী ইরানের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই ঘটনাকে ফলাও করে তুলে ধরছে পশ্চিমা মিডিয়া। এমনকি ইরানের বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শাসক দলের দাবী ইরানের আভ্যন্তরীন পরিস্থিতি জটিল করার জন্য এই ঘটনাকে তুলে ধরা হচ্ছে। প্রসঙ্গত ২০২২ সালে ইরানের নীতি পুলিশের হাতে হিজাব সঠিক ভাবে না পরার কারণে তরুনী মাহসা আমিনির গ্রেফতারের করা হয়। পরে পুলিশী হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল ইরান। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও হিজাব বিলোপের দাবীতে লাখ লাখ ইরানী নারী রাজপথে নেমেছিলেন। আন্দোলন সামলাতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালায়। মৃত্যু হয় বহু আন্দোলনকারীর। তারপর ইরান সরকার নতুন করে ইরানের মহিলাদের ওপর আরও কড়াভাবে তাদের পর্দায় রাখার আইন এনেছে। এই আইন না মানলে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো গুরুতর অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।
