মাদারিহাটে তৃণমূলের মহাবিজয়ের আসল কারিগর কে?

Madarihat by election result

মাদারিহাট বিধানসভায় এই প্রথম খাতা খুলল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ তে বাংলায় পরিবর্তনের পর থেকে পরপর ২০১৬ ও ২০২১ দুটি বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে কিন্তু মাদারিহাট তৃণমূল কংগ্রেসের অধরাই থেকে ছিল। অবশেষে সেই খরা কাটল। তৃণমূল কংগ্রেস আলিপুরদুয়ারের চা বাগানে ভোটে ঘাসফুল। ২০১৬ ও ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপি দখল করে। ১৯৯৮ সাল থেকে কার্যত এই বিধানসভা প্রথমে বামেদের পরে বিজেপির দখলে আসে। ১৯৬৭ সালে একবারই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এই আসনটিতে জয় পেয়েছিল। সে দিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয় নিঃসন্দেহে এবারের উপ নির্বাচনে বাড়তি প্রাপ্তি।

এই বিধানসভা মূলত চা বাগান চা শ্রমিক বিভিন্ন জনজাতির বাস। পৃথিবীর একমাত্র টোটো উপজাতি এই বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে আরএসএস চা শ্রমিক এবং জনজাতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই সেই শক্ত প্রাচীর ভাঙ্গা মোটেই সহজ ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেস ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকলেও আলিপুরদুয়ার অধরায় থেকে গেছিল। অবশেষে উপনির্বাচনে অধরা স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল।

সে কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত মাদারিহাট এর এই জয়কে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মাদারি হাটের প্রচারে সেই অর্থে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন তারকা প্রচারককে নামানো হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিধানসভা উপনির্বাচনে কোন কেন্দ্রেই প্রচারে যাননি। আর মাদারিহাটে শেষ মুহূর্তে বহরমপুর লোকসভার সাংসদ ইউসুফ পাঠান কে দুদিনের জন্য প্রচারে নামানো হয়েছিল। তবে মাদারিহাটে মাটি কামড়ে পড়েছিলেন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সেদিক থেকে দেখতে গেলে মাদারিহাটের এই ফল নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ এবং আলোচনার অন্যতম বিষয় বটে। কারণ এটা পরিষ্কার প্রাক্তন সাংসদ বিজেপির জন বাংলা সেভাবে প্রচারে নামেননি। মনোজ টিজ্ঞা মাঝিরহাটের দুবারের বিধায়ক বর্তমানে বিজেপির আলিপুরদুয়ার লোকসভার সাংসদ । তার কারণেই এই বিধানসভার উপনির্বাচন। তা সত্ত্বেও ৩০ হাজারের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থীর জয়লাভ এটা তৃণমূলের বিশাল প্রাপ্তি। মাঝিরহাটের চা বাগানের শ্রমিক বস্তি কিংবা জনজাতিরা কেন তৃণমূলের দিকে ফিরে এলো কেন বিজেপির দিক থেকে মুখ ফেরালো এর ম্যাজিক কি। এর পিছনে আসল কারিগর কে। সেটা এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।