পোলট্রী খামারের শ্রমিক থেকে পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ানটেড সাজ্জাক আলম

পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ানটেড সাজ্জাক আলমকে নিকেশ করল পুলিশ। সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় সাজ্জাক আলমের। ২৫ বছর বয়সী এই কুখ্যাত দুস্কৃতির মৃত্যুর খবরে স্বস্তির নিশ্বাস যেমন জেলার পুলিশ মহলে একই ভাবে খুশির হাওয়া নিজের গ্রাম ছোট সোহার গ্রামে।

গত বুধবার সাজ্জাক ইসলামপুর আদালত থেকে রায়গঞ্জ সংশোধনাগারে ফেরার সময় দুই পুলিশকর্মীকে গুলি করে পালায় সাজ্জাদ৷ গুরুতর জখম হন দুই পুলিশকর্মী৷ এর পর থেকেই কুখ্যাত দুষ্কৃতী সাজ্জাদের খোঁজে মরিয়া হয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ৷ তার সন্ধান দিতে পারলে ২ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করেছিল পুলিশ। জানা যায়, জেল লক আপে তার হাতে বন্দুক পৌঁছে দিয়েছিল আবদুল নামে এক বাংলাদেশি দুষ্কৃতী।এই ঘটনার পর উত্তর দিনাজপুর গিয়ে ডিজি রাজীব কুমার বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা ১টা গুলি ছুড়লে পুলিশ ৪টে গুলি ছুড়বে। ২ দিনের মাথায় সত্যি হল সেই আশঙ্কা

কে এই সাজ্জাক আলম

প্রথম থেকেই নিজের করণদিঘির ছোট সোহরা গ্রামের আশপাশে ছোটখাট অপরাধ করে নিজের হাত পাকাতে থাকে। অভাবের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিল সাজ্জাক। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পাকাপাকি চুরু ছিনতাইয়ে তার নাম নাম জড়ায়।২০১৯ নিজের জেলার গোয়ালপোখরে তার বিরুদ্ধে ছছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে স্থানীয় পোলট্রী ফার্মে কাজ করত সাজ্জাক। বাবা আব্দুল মাজিদ খুব একটা রোজগার করতেন না। মা এ বাড়ি ও বাড়ি কাজ করে কোনরকমে দিন গুজরান করতেন।ছেলের নানা কুকর্মের জন্য নিজের গ্রাম থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়।২০১৯ সালে করণদিঘী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ী খুন করার অভিযোব ওঠে। সে সময় থেকেই জেলেই ছিল সাজ্জাক। বুধবার জেল থেকে আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

শনিবার ভোর রাতে গোয়ালপোখরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের মুখোমুখি হয় সাজ্জাক। তখন তাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেন পুলিশ আধিকারিকরা। কিন্তু তাতে কান দেয়নি সে। এর পরও কুয়াশার সুযোগ নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে থাকে অভিযুক্ত। তখন পুলিশকর্মীরা গুলি চালালে সাজ্জাকের গায়ে গুলি লাগে। লুটিয়ে পড়ে সে। এর পর তাকে উদ্ধার করে ইসলামপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।সাজ্জাকের কাঁধে, পেটে ও পায়ে ৩টি গুলি লাগে। ইসলামপুর হাসপাতালে তাকে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পালানোর সময় সাজ্জাদ আলমই প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়৷ জবাবে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয়েছে গত বুধবার উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে পুলিশকে গুলি করার ঘটনায় অভিযুক্ত সাজ্জাদ আলমের৷ এমনই দাবি করলেন রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম৷