Congress Protest
পুরুলিয়া
কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যেের সব জেলায় কড়া হাতে বালি চূরি আটকাতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের পর পুলিশের নজরদারি বেড়েছিল। কিন্তু আবার বালি চূরি ও প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছে।

সরকারি নির্দিষ্ট দামে বালি বিক্রির দাবিতে শনিবার পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে এক ঘন্টার পথ অবরোধ করল কংগ্রেস কর্মীরা। বালির জন্য অবরোধ সাধারণত চোখে পড়ে না। কিন্তু কেন এই অবরোধের পথ বেছে নিল কংগ্রেস কর্মীরা। এ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য পুরুলিয়ার কাঁসাইসহ বিভিন্ন নদীর বালি চড়া দামে অবৈধ ভাবে প্রতিদিন চোখের সামনে কলকাতা চলে যাচ্ছে। অথচ পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ সেই বালি কিনতে পারছে না। বিশেষ করে সরকারি বাড়ি তৈরির জন্য গরিব মানুষ ১ লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা পাচ্ছেন তা বালি কিনতেই অনেক খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ সাধারণ মানুষকে এক ট্রাক্টর বালি কিনতে হচ্ছে ৬০০০ টাকায়। অথচ সরকারি নিয়মে এক ট্রাক্টর বালির জন্য সরকারকে ৩৬০ টাকা রয়্যালটি দিতে হয়। কিন্তু সে নিয়ম মানা হচ্ছে না।

তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে চড়া বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে। আর স্থানীয় মানুষ নদী থেকে বালি তুললেই তাদের পুলিশকে বড় টাকা ফাইন দিতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সব স্তরে বার বার জানিয়েও কোন ফল হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। সরকারি এই অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিনে বড় আন্দোলনে পথে নামবে কংগ্রেস কর্মীরা এই হুশিয়ারি শোনা গেছে কংগ্রেস নেতা নৃপেন মাহাতোর গলায়।
কিছু দিন আগে সামাজিক মাধ্যমে একই অভিযোগ করেছিলেন পুরুলিয়ায় কুড়মি সমাজের নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো। তিনি জানিয়েছিলেন পুরুলিয়ায় সাধারণ মানুষকে বালি কিনতে চড়া দাম দিতে হচ্ছে তাই আবাস যোজনার বাড়ি ১ লাখ কুড়ি হাজার টাকায় সম্পূর্ণ করা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঝাড়গ্রামের নেগাচারি কুড়মি সমাজের নেতা অনুপ মাহাতো একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ ঝাড়গ্রাম জেলাতেই একই রকম সমস্যার মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে আর গরিব মানুষ বালি কেনার অর্থ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। জেলাপ্রশাসনকে এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন ।
