Election Commission’s voter correction in controversy
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য , বিশিষ্ট সাংবাদিক
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্যের থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এশিয়ার যে দেশগুলি তার মধ্যে ভারত অনেক দিক থেকেই ব্যতিক্রমী। এই দিক গুলির মধ্যে একটি অন্যতম বিশেষ দিক হলো গনতন্ত্র। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় গনতন্ত্র অনেক সময়েই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। এবার ভারতীয় গনতন্ত্র কে এক কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেলেছে দেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন। গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অতীব গুরুতর অংশ হলো নির্বাচন। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার পরিচালক হলো নির্বাচন কমিশন। গনতান্ত্রিক দেশের এই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকত্বেই গনতন্ত্রের অর্থ পাল্টে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিহারে ভোটের আগে নিবিড় সমীক্ষায় ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ চলছে। এই কাজে যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তাতে অসংখ্য বিহারবাসী ভোটের অধিকার হারাতে পারেন এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই পদ্ধতি শুরু হবে কিছুদিন পরেই। বিহারে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। তারমধ্যে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি। এদের নতুন করে ভোটার হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ২৫শে জুলাইয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট ফর্ম ও নথি জমা দিতে না পারলে নাম কাটা যাবে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে তাতে বিচারপতিরাই মন্তব্য করেছেন, এই সময়সীমা মানা অতি কঠিন কাজ। নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গেলে তাতে আদালতের হস্তক্ষেপ অসম্ভব। তাই এত কম সময়সীমা কেন তার উত্তর কমিশনের কাছে চেয়েছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা।
কোনও আলোচনা বা বিতর্ক ছাড়াই এমন একটি অত্যন্ত গুরুতর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে তা হলে কি দেশের বর্তমান সাংসদরা অবৈধ ভোটে জিতেছেন? নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্রুত নগরায়ন, অভিবাসন, মৃত ব্যক্তিদের নাম থেকে যাওয়া ইত্যাদি কারণে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রয়োজন। যারা পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন তাদের বক্তব্য হলো এই সবই অতি স্বাভাবিক ঘটনা। হঠাৎ কিছু হয়নি, তাই দ্রুততার সঙ্গে নিবিড় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সহজবোধ্য নয়।
শীর্ষ আদালত ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে কমিশনকে বাধা দেয় নি। তবে কে নাগরিক আর কে নয় তা যাচাইয়ের প্রশ্নে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড গ্ৰহন না করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথি নির্দিষ্ট করা কমিশনের কাজ নয় বলে মনে করছেন বিরোধীরা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এ বিষয়ে কমিশনের ক্ষমতা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পথ বার করা উচিত কেন্দ্রের।
