From losing the symbol to the legal battle and the new equation in Nandigram.
বিশেষ প্রতিবেদন
রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই, প্রার্থীর দলবদল এবং কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন—সব মিলিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১. নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ ও সুপ্রিম কোর্টে মমতা
তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ (Freeze) করার নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনে মমতা শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও জোড়ফুল কেড়ে নিয়ে প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম দিয়ে প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ‘খাম’।
২. নন্দীগ্রামে নাটকীয় মোড় ও কংগ্রেসকে সমর্থন
প্রতীক ও নাম হারানোর ধাক্কার মধ্যেই নন্দীগ্রামে বড় ধাক্কা খায় মমতা শিবির। মমতার ঘোষিত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর অপ্রত্যাশিতভাবে সরে দাঁড়ান। প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করতে নন্দীগ্রামে তাঁরা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবেন। তবে রেজিনগর কেন্দ্র নিয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৩. গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের ঘোষণার পরেই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়কার একটি পুরনো খুনের মামলায় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে তীব্র আক্রমণ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিজেপি ও প্রশাসন ভয় পেয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করছে এবং এর বিরুদ্ধে তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।
৪. মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত দম্ভ এবং ভগবান রামের অভিশাপেই তৃণমূল আজ ধ্বংসের মুখে। মমতার দল একজোট থাকতে পারেনি এবং দলের এই বহুধা বিভক্তির সম্পূর্ণ দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজেরই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংক্ষিপ্তসার: প্রতীক হারানো মামলা সুপ্রিম কোর্টে গড়ালেও, উপনির্বাচনের ঠিক আগে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে মমতার সমর্থন এবং সেই প্রার্থীরই গ্রেফতারি—সবমিলিয়ে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে।
এই পরিস্থিতিতে উপনির্বাচনের ফলাফল বাংলা রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
