মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখোমুখি ১৭০ যাত্রী, তারপর বাঁচার লড়াই ককপিটে রক্তাক্ত সংঘর্ষ, হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নেমে গেল বিমান—যাত্রীদের চোখে সেই আতঙ্কের মুহূর্ত

170 passengers face death mid-air, followed by a battle for survival.

বিশেষ প্রতিবেদন

এক মুহূর্ত আগেও সবকিছু ছিল স্বাভাবিক। দুবাই থেকে তেল আবিবের পথে উড়ছিল দুবাইয়ের বিমান। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭০ জন যাত্রী। কিন্তু আচমকাই বদলে গেল সবকিছু। প্রথমে মনে হয়েছিল বিমানটি প্রবল ঝাঁকুনির মধ্যে পড়েছে। তারপর শোনা গেল চিৎকার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই যাত্রীরা বুঝতে পারেন, বিপদটা বিমানের বাইরে নয়—ককপিটের ভিতরেই।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যাত্রীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ছবি। যাত্রী মেইতাল জোলার জানান, বিমানটি আচমকা বারবার ওপর-নিচে উঠতে শুরু করে। এরপরই শোনা যায় চিৎকার। আরেক যাত্রী অ্যাডাম পোলভিনচিক বলেন, সন্তানদের সামনে তাঁরা নিজেদের শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিমানটি আচমকাই ভয়াবহভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাথার ওপরের লাগেজ রাখার বাক্স খুলে যায়, ব্যাগপত্র ছিটকে পড়ে। যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় চিৎকার, কান্না ও প্রার্থনা। অনেকেরই মনে হয়েছিল, এটাই হয়তো তাঁদের জীবনের শেষ মুহূর্ত।

যাত্রী হিলা গাইয়ার বর্ণনা আরও হৃদয়বিদারক। বিমান যখন নিচের দিকে টানতে শুরু করে, তখন তিনি তাঁর দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে জানান, তিনি তাঁদের ভালোবাসেন। অন্য এক যাত্রী আলমগ ইতালি জানান, বিমানটি কিছুক্ষণ স্থির হওয়ার পর আবার কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভয়াবহভাবে নিচে নেমে যাচ্ছিল।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। সেই সময় বিমানের ভিতরে কী ঘটছিল, তা প্রথমে যাত্রীরা স্পষ্ট বুঝতে পারেননি। পরে জানা যায়, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছিল। প্রতিবেদনে যাত্রী ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত তখনও চলছিল।

আর সেই মুহূর্তেই সামনে আসে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার-এর সাহসিকতার কথা। গুরুতরভাবে আহত হওয়ার পরও তিনি লড়াই চালিয়ে যান এবং ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

যাত্রীদের মধ্যে থাকা কয়েকজন অফ-ডিউটি পাইলটও পরিস্থিতি সামলাতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রক্তাক্ত পোশাক পরা যাত্রীদের নামতে দেখা যায় বিমান থেকে। পরে তাঁদের অন্য বিমানে করে নিরাপদে ইসরায়েলে পৌঁছে দেওয়া হয়।

একটি সাধারণ বিমানযাত্রা যে মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে, সেখানে যাত্রীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, ক্রুদের তৎপরতা এবং ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের প্রতিরোধ—সব মিলিয়েই শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচলেন বিমানে থাকা মানুষগুলি। তবে ঘটনার পূর্ণ সত্য এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।