নির্বাচন কমিশন মামলায় ১০ দিন সময় সুপ্রিম কোর্টের, শুনানি ১৭ নভেম্বর

Supreme Court gives 10 days to file Election Commission case

SIR নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, নথি সংরক্ষণের আর্জি বিরোধীদের

নিজস্ব প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) কার্যপদ্ধতি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া জবাবি হলফনামার পাল্টা বক্তব্য পেশ করার জন্য মামলাকারীদের ১০ দিন সময় দিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাগুলির শুনানি হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মামলাকারীদের। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি সংরক্ষণের আর্জি

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতের কাছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ এবং ফাইলের নোটিং সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল, নাকি একতরফাভাবে—তা নির্ধারণের জন্য এই নথিগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত সব বিষয় জানে এবং নথি খতিয়ে দেখবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ দোলা সেনের হয়ে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের হলফনামা মামলাকারীদের বক্তব্যকেই সমর্থন করছে। তাঁর আরও অভিযোগ, কমিশন ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন করেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই পরিবর্তন অনুমোদন করেছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের হয়ে সওয়ালকারী আইনজীবী মনিন্দর সিং এই বক্তব্য খারিজ করে দেন।

কী বলেছে নির্বাচন কমিশন?

সম্প্রতি জমা দেওয়া জবাবি হলফনামায় নির্বাচন কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, SIR সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে কাজ করা থেকে বিরত রাখার আবেদন আইনত গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো একই পদ্ধতি ও একই ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের বিধান রয়েছে।

কী নিয়ে মূল বিতর্ক?

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, SIR সংক্রান্ত অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশির আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়।

রাকেশ কুমার সিং, রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতারা, আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-সহ একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠন এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের ১৮ নম্বর ধারার বিধান মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর আগে ৫ অক্টোবর শুনানিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সাময়িকভাবে কাজ থেকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হলেও আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য না শুনে এমন নির্দেশ দিলে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে।

এবার পাল্টা হলফনামা জমার জন্য সময় দেওয়ায় মামলাটির নিষ্পত্তির আগে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।